বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
শ্রীপুরে বিক্রিত জমি পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগকল্পনালতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগমিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে শ্রীপুরে সংবাদ সম্মেলনবগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব উঠতে পারে নিকার সভায়চট্টগ্রাম থেকে ১৯ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরুনম্বর প্লেটেই আসল খেলা : ৬ লাখের সিএনজি ২৫ লাখ!গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসকগাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখমধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারিশ্রীপুরে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিতTestশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়

শ্রীপুরে বিলুপ্তপ্রায় খেজুর রসের ঐতিহ্য

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে বিলুপ্তপ্রায় খেজুর রসের ঐতিহ্য
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

গাজীপুরের শ্রীপুরে শীত মানেই খেজুর রসের যে পরিচিত দৃশ্য ছিল, তা এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। এক যুগ আগেও ভোর হলেই বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে গাছিদের ব্যস্ততা চোখে পড়ত। কাঁধে হাঁড়ি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রস বিক্রি করতেন তারা। কিন্তু শিল্পায়ন, বনভূমি উজাড় ও কৃষিজমি সংকোচনের কারণে কমে গেছে খেজুর গাছ, ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গাছি ও রস সংগ্রহের ঐতিহ্য।

হেরা পটকা গ্রামের হাবিবুল্লাহ জানান, আগে শত শত গাছ থেকে রস আসত, গুড় বানানোর সুবাসে বাড়ি মুখর থাকত। এখন সেই স্মৃতি শুধু গল্পেই বেঁচে আছে। একই গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, একসময় মা–দাদিদের হাতের রসের পিঠা–পায়েস শীতের আনন্দ বাড়িয়ে দিত; এখন কাঁচা রস বা গুঁড় চোখেই পড়ে না।

গাড়ারন গ্রামের অভিজ্ঞ গাছি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “আগে প্রচুর গাছ ছিল, রসও পেতাম। অনেক গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে, আর গাছ নেই, রসও নেই।”

 

 

গোসিংগা ইউনিয়নের গাছি আব্দুল আলী বলেন, কারখানা বেড়ে যাওয়ায় গাছ কমেছে। এবার তিনি অন্যের প্রায় ১৫০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। তার ভাষায়, “একটি গাছ থেকে চার মাস রস পাওয়া যায়। মাসে ৫০ হাজার টাকার মতো আয় হয়। এবার কাঁচা রস কেজি ৫০ টাকা, পাটালি গুঁড় ৪৫০ এবং রশি গুঁড় ৩০০ টাকা।”

রস সংগ্রহের ঝুঁকির কথাও জানান গাছি হোসেন আলী। রশি বেঁধে গাছের মাথায় উঠে পরিষ্কার করা, ঘটি ঝোলানো, সব মিলিয়ে কাজটি অত্যন্ত বিপদজনক। বয়সের কারণে এখন আর আগের মতো গাছে উঠতে পারেন না।

সাতখামাইর এলাকার প্রবীণ আব্দুল মোতালেব (৮০) বলেন, “আমাদের এলাকায় ভোর হতেই রসের ধুম পড়ে যেত। এখন গাছগুলোও তেমন নেই, আর গাছিও নাই।”

মাওনা ইউনিয়নের সদস্য হাফেজ শামীম আহাম্মদ মৃধা বলেন,
“গাছি কম থাকার কারণ হচ্ছে শিল্পায়নের ফলে গাছ কমে যাচ্ছে। খেজুর রসের স্বাদ এখন স্মৃতির পাতায়। বাজারে চাহিদা আছে, কিন্তু রস পাওয়া যায় খুব কম। এখনই গাছ লাগানোর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বই ছাড়া খেজুর রস চিনবে না।”

১নং মাওনা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর সরকার ও তৈয়ব হোসেন খান জানান, “খেজুর গাছ থাকা সত্ত্বেও গাছি না পাওয়ায় নিজেদের চাহিদা পূরণের জন্য নিজেরাই নিজেদের গাছ কাটছি, যেন আমরা এবং নিকট প্রতিবেশিরা এই শীতকালীন মিষ্টি রসের স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হই।”

স্থানীয় যুবক জাহিদ হাসান বাপ্পি বলেন, “রস আমার খুবই পছন্দের একটি জিনিস। একসাথে চার–পাঁচ গ্লাস খেতেও পারি। অনেক কষ্ট করে চার–পাঁচ দিন খুঁজে আজ অবশেষে এই দুই হাড়ি রস পেয়েছি।”

 

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, খেজুর গাছ গ্রামীণ সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অংশ। শিল্পায়ন ও অব্যবস্থাপনায় গাছ কমে গেছে। কৃষি বিভাগ সাধারণ মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করছে এবং প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে। তার মতে, এখনই উদ্যোগ না নিলে খেজুর রসের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে।

শ্রীপুরে বিক্রিত জমি পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে বিক্রিত জমি পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া বাজার এলাকায় বিক্রিত একটি জমি পুনরায় জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমির মালিক হারিসুল হকের মেয়ে তাসলিমা আক্তার। উল্লেখ্য, জমিটি ৭ নম্বর কেওয়া মৌজায় অবস্থিত। এর এসএ দাগ নম্বর ১৬৬৪ এবং আরএস দাগ নম্বর ৩৩৮৬ ও ৩৩৮৭। ২০০৯ সালে তিনি জমিটি প্রথমে মোক্তার হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মোক্তার হোসেন থেকে মাহমুদা আক্তার রিনা জমির মালিকানা অর্জন করেন।

কিন্তু তৎকালীন পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীনের প্রলোভনে পড়ে তাসলিমা আক্তার একই জমি পুনরায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালে জালাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে প্রায় ১৩ গন্ডা জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি ও তার স্ত্রী শিরিনা আক্তারের নামে সমহারে ৩.৫০ শতাংশ জমি সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করেন। এরপর প্রভাব খাটিয়ে জমিটি জবর দখল করেন বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরে ৫ আগস্টের পর জালাল উদ্দীন এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মাহমুদা আক্তার রিনা পুনরায় জমির দখল বুঝে পান।

বর্তমানে জালাল শেখের সহযোগী শিরিন আক্তার এবং স্থানীয় জাকির মন্ডলের নেতৃত্বে একদল লোকজন নিয়ে পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।

মাহমুদা আক্তার রিনা বলেন, “আমরা এখন ভয়ের মধ্যে বসবাস করছি। যেকোনো সময় হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

রিনার ভাই মাসুদ রানা বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তা না পেরে এখন হামলার চেষ্টা করছে।”
আরেক ভাই আমিনুল ইসলাম জানান, “আমাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। জমি ছেড়ে না দিলে যেকোনো সময় হামলা হতে পারে বলেও হুমকি দিচ্ছে তারা।”

অপর দিকে জাকির মন্ডল বলেন, “তাসলিমা আক্তার জালাল শেখের কাছে জমি বিক্রি করেছেন। তবে সম্পূর্ণ জমির মালিক তাসলিমা আক্তার না হওয়ায় মাসুদ রানা কিছু অংশ বিক্রিতে সম্মতি দেন। কিন্তু রেজিস্ট্রি সম্পূর্ণ করা হয়নি। আমি জালাল শেখের কাছ থেকে বায়না করেছি। কোনো ধরনের মামলা, হামলা বা হুমকি দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

কল্পনা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
কল্পনা

বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ

হজ ব্যবসায় ব্যস্ত প্রভাষক

লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের ইবতেদায়ী শাখার শিক্ষিকা আলেয়া আক্তার প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, আরবি বিভাগের প্রভাষক গোলাম কিবরিয়া হজ্ব ও উমরার ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত পাঠদানে মনোযোগী নন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, তিনি বছরে দুইবার করে সৌদি আরব যান এবং গত দুই বছরে অন্তত চারবার সেখানে গিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলেয়া আক্তার ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রথমদিকে তিনি একজন প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগ দিলেও কয়েক মাস পর সেই শিক্ষকও চলে যান। ফলে ইবতেদায়ী শাখার শিক্ষার্থীরা কার্যত শিক্ষকশূন্য অবস্থায় পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে। অনেক শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকেন না এবং শ্রেণি কার্যক্রমে অবহেলা করেন। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছেমতো পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফি উদ্দিন আহমেদ বলেন,আলেয়া আক্তার ১১ মাস অনুপস্থিত থাকার পর গত মাস থেকে তার বেতন বন্ধ করা হয়েছে। অপর শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া হজ্ব ও উমরার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তিনি গত বছর সৌদি আরব গিয়েছিলেন এবং এ বছরও যাওয়ার আবেদন দিয়েছেন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগতি করেছি।

অভিযুক্ত দুইজন শিক্ষকের মুঠোফোনে একধিক বার যোগাযোগের চেষ্ঠা করলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।