শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম:
গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসকগাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখমধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারিশ্রীপুরে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিতTestশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনাসাংবাদিকদের সম্মানে শ্রীপুর প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিলtestঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রীপুরে শিক্ষা অফিসে দপ্তরিদের অবস্থান৬২ হাজার টাকায় কেনা বিড়াল অসুস্থ, টাকা ফেরত দিতে আইনি নোটিশশ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান…’

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান…’
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ এর অনুকরণে দেশ ও জাতিকে নিয়ে একটি নতুন স্লোগান ধারণ করার কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’।

তারেক রহমান বলেন, ‘ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম শুনেছেন আপনারা। নাম শুনেছেন তো? মার্টিন লুথার কিং-এর একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে— ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সবার সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি (দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।’

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া গণসংবর্ধনায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়– প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন এবং সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে যত মানুষ আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।

তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি। হে রাব্বুল আলামিন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরওয়ারদিগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী—আজ আপনি যদি আমাদেরকে রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে; আল্লাহর সাহায্য, আল্লাহর দয়া এই দেশের মানুষের উপরে থাকে– ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি– ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

আপনাদের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজের বক্তব্যের শুরুতে বলেন, আজ প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজারো লক্ষ-কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই। রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি, আপনাদের দোয়ায় আপনাদের মাঝে আসতে পেরেছি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে ৭৫-এ আবার ৭ই নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য সেদিন সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করা হয়েছিল। একইভাবে পরবর্তীতে ৯০-এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ, এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু তারপরেও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।

তিনি বলেন, আমরা তারপর দেখেছি ২০২৪ সালে.. ৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ; কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষ সেদিন ৫ই আগস্ট এই দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল।

একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই

আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায় উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।

তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, এই দেশে একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই, সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব— যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু— যেই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, ৪ কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, ৫ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন, কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা আছে এই রাষ্ট্রের কাছে, এই মানুষগুলোর একটি আকাঙ্ক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে আমরা এই লক্ষ-কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ৭১’ সালে আমাদের শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য। বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শত শত, হাজারো মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে; শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সাল, মাত্র সেদিনের ঘটনা— আমরা দেখেছি আমাদের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের এই স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য।

ওসমান হাদিকে স্মরণ করলেন তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনের এক সাহসী প্রজন্মের সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে; ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক, এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। আজ ২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন– ওসমান হাদিসহ, ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছেন এবং বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন— এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব, যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।

বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে, আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন, তোমরাই আগামী দিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে, দেশকে গড়ে তুলবে। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত ভিত্তির ওপরে, গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে এবং অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।

যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে

‘আমার সাথে আজকে মঞ্চে এখানে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। আল্লাহর রহমত আমরা চাই। যে সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই মঞ্চে আছেন এবং মঞ্চের বাইরে যে সকল জাতীয় আরও নেতৃবৃন্দ আছেন– আমরা সকলে মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদেরকে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।

তিনি বলেন, আজ আপনারা জানেন এখান থেকে আমি আমার মা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। একটি মানুষ, যে মানুষটি এই দেশের মাটি ও এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন– তার সাথে কী হয়েছে আপনারা প্রত্যেকটি মানুষ সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে আমি চাইব– আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ উনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।

সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ এখানে দাঁড়িয়েছি

তারেক রহমান বলেন, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন— অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। এবং সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন– আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।

তিনি বলেন, আসুন আমাদেরকে আজ নিশ্চিত করতে হবে— আমরা যে ধর্মের মানুষই হই, আমরা যে শ্রেণির মানুষই হই, আমরা যে রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হই অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই– আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখব। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক– যেকোনো বয়স, যেকোনো শ্রেণি, যেকোনো পেশা, যেকোনো ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে। এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আসুন সবাই মিলে আজ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। সবাই মিলে করব কাজ— গড়ব সুন্দর বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ।

বক্তব্যের শেষ দিকে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চেয়ে, আবারো সকলকে যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে, যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিহার করে ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। আবারো আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজকে আমাকে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য।

এর আগে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর যুক্তরাজ্য থেকে আজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

মোঃ সোহেল মিয়া,গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সদর উপজেলা ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প ও ইউনডিপি বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ৫ দিন ব্যাপী ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যম্প পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক জনাব নুরুল করিম ভূঁইয়া। মঙ্গলবার ৭ই এপ্রিল দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাসন ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্পে কর্তব্যরত সেবা দানকারীদের সাথে এ ক্যাম্পের উদ্দেশ্য এবং সেবা প্রদান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। এসময় বাসন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মাহ্ আলম কে প্রয়োজনে এ প্রচারণারকে আরও বেগবান ও গতিশীল করতে মসজিদ মাইকিং করারা নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। এ সেবা ক্যাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে অটোমেটেড ভূমি সেবা সিস্টেমে তথ্য সন্নিবেশ ও সংশোধন সংক্রান্ত ধারণা প্রদান করা।যাতে করে সহজেই সাধারণ মানুষ অটোমেটেড বা ডিজিটাল ভূমি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে। এসময় সাথে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন ভূমি অফিস সংলগ্ন ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুর খনন করলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সহ অগ্নিনির্বাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অবহিত করেন জেলা প্রশাসককে। পরে ভূমি সহকারী কর্মকতা মাহ্ আলমের কক্ষে থাকা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন জেলা প্রশাসক।এসময় ভূমি অভিযোগের মত কর্মচারীদের কাজের অভিগতির খোঁজখবর নেন দ্রুত সেবার মান নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করেন ও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মাহ্ আলমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।অয়োজকরা জানিয়েছেন ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা কার্যক্রম চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত । ৫ দিন ব্যাপী এ আয়োজন জনসাধারণের ডিজিটাল ভূমি সংক্রান্ত সেবা সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি হয়রানি ও জনদুর্ভোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখ

মোঃ সোহেল মিয়া, গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, শনিবার (৪এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে মহানগরের সদর মেট্রো থানার দুইটি গ্যাস সিলিন্ডার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি’র ডিলার পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নিয়ামত সড়কে অবস্থিত ‘জননী এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী মেজিস্ট্রেট।

অপরদিকে সদর মেট্রো থানার আওতাধীন দেশীপাড়া এলাকায় ‘খাজা গরিবে নেওয়াজ স্টিল বিতান’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অপরাধসহ নানা অসংগতির প্রমান পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ভোক্তা অধিকার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। জরিমানার বিষয়টিও তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

মধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
মধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

মোঃ সোহেল মিয়া, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় পার হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও চরম ভোগান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। মহানগরের অধিকাংশ পাম্প তেল না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে, আর যে কয়েকটি পাম্প খোলা রয়েছে সেখানে তেলের জন্য যানবাহনের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। মূলত মধ্যরাতেও তেলের জন্য অপেক্ষারত চালকদের এই হাহাকার দৃশ্যমান হচ্ছে মহানগরের প্রতিটি প্রান্তে।

সরেজমিনে তদন্তকালে দেখা যায়, গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন ঝাজর এলাকায় অবস্থিত ‘গাজীপুর সিটি ফিলিং স্টেশনে’ মধ্যরাতেও কয়েকশ যানবাহনের ভিড় লেগে আছে। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষ তেলের পরিমাণ সীমিত করে দেওয়ায় প্রয়োজনীয় পথ পাড়ি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেক চালককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতার পেছনে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে তেল সংগ্রহের প্রবণতা কমছে না। ফলে তেলের বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম ও প্রকৃত সংকটের মিশ্র রূপ দেখা দিয়েছে।

ভোগান্তিতে পড়া চালকরা জানান, তেলের এই তীব্র সংকটের কারণে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে লাইনে দাঁড়িয়ে সময়ের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পরিবহন মালিকরা। চালকদের শঙ্কা, যদি এই সংকট দ্রুত নিরসন করা না যায় তবে দেশের পরিবহন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর। গাজীপুরের মতো শিল্প ও পরিবহন সমৃদ্ধ এলাকায় এই সংকটের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গাজীপুরের জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। পাম্পগুলোতে তেলের সুষম বণ্টন এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে। পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজার দর এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে আমাদের পোর্টালের পরবর্তী আপডেটগুলোতে চোখ রাখুন।