শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম:
গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসকগাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখমধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারিশ্রীপুরে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিতTestশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনাসাংবাদিকদের সম্মানে শ্রীপুর প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিলtestঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রীপুরে শিক্ষা অফিসে দপ্তরিদের অবস্থান৬২ হাজার টাকায় কেনা বিড়াল অসুস্থ, টাকা ফেরত দিতে আইনি নোটিশশ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

এক নজরে খালেদা জিয়া

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
এক নজরে খালেদা জিয়া
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানানো হয়েছে।

দলের ওয়েবসাইট (https://bnpbd.org/) পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম সাল ১৯৪৬। ‘নন্দিত নেত্রী: খালেদা জিয়া’ শীর্ষক গ্রন্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপ-প্রেস সচিব সৈয়দ আবদাল আহমেদ উল্লেখ করেন, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুঁড়ির নয়াবস্তি এলাকায় তার জন্ম। গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ।

দিনটি সম্পর্কে আবদাল আহমেদ লেখেন, ‘তখন শরতের স্নিগ্ধ ভোর। নতুন শিশুর আগমনে পরিবারের সবাই আনন্দিত।’

বিএনপির দলীয় সূত্র ও তার জীবনীগ্রন্থগুলো থেকে জানা যায়, খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম। তার ডাক নাম পুতুল। পারিবারিকভাবে তার আরও ডাকনাম ছিল— টিপসি, শান্তি। বাবা ইস্কান্দর মজুমদারের বন্ধু চিকিৎসক অবনীগুহ নিয়োগীই সদ্য প্রসূত কন্যাকে ‘শান্তি’ নামে সম্মোধন করেন।

পৃথিবী তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে মাত্র কয়েকদিনে পড়েছে। দিনকয়েক আগে জাপানে ঘটে গেছে আমেরিকার আনবিক বোমার হত্যাযজ্ঞ। ভারতসহ নানা দিকেই তখন শান্তি মিছিল, মানুষের এই আকাঙ্ক্ষার মধ্যেই নতুন জন্ম নেওয়া শিশুকন্যার নাম হয়ে উঠলো ‘শান্তি’। পরবর্তী সময়ে মেঝো বোন সেলিনা ইসলামের রাখা ‘পুতুল’ নামটিই জড়িয়ে গেল খালেদা জিয়ার ডাকনাম হিসেবে।

খালেদা জিয়ার আদিবাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। তার বাবার নাম ইস্কান্দর মজুমদার ও মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। তিন বোন (খুরশিদ জাহান হক চকলেট, সেলিনা ইসলাম বিউটি ও খালেদা খানম পুতুল) ও দুই ভাইয়ের (মেজর সাঈদ ইস্কান্দর ও শামীম ইস্কান্দর) মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়। এদের মধ্যে এক বোন সেলিনা রহমান, ভাই শামীম ইস্কান্দর জীবিত আছেন। দুই সন্তান তারেক রহমান পিনো ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জননী তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, খালেদা জিয়া তার স্বামী জিয়াউর রহমানের বধূ হিসেবেই জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন। ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

১/১১’র আলোচিত মঈন উদ্দীন ও ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের সাজা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে তাকে রাখা হয়। এরপর ওই বছরের ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি করা হয়। পরে নিম্ন আদালতের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

প্রায় দুই বছর পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় পারিবারিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর দফা-দফায় ছয় মাস করে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সাবেক সরকার। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরদিন (৬ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া।

এর আগে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর কারারুদ্ধ হন তিনি। পরে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দ্বিতীয় দফার দায়িত্বকাল ছিল এক মাস।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি বিজয়ী হয়। ওই বছরই বেগম জিয়া পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন হয়।

১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এক মাসের জন্য ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নের পর ওই বছর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি, তিনি হন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা।

১৯৯৯ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, গোলাম আজমের (একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত) নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেন তিনি। একইসঙ্গে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই সে বছর নির্বাচন থেকে বিরত থাকে। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, তখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সমন্বয় করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে থাকায় সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। এমনকি এই নির্বাচনে জিয়া পরিবারের কোনো সদস্যই অংশগ্রহণ করেননি। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেয়নি তার দল।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করেন। সেখানে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ৪৮ ট্রাক ত্রাণ বিতরণ করেন খালেদা জিয়া।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে কারাগারে যাওয়ার আগে ৭ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া শেষবার সংবাদ সম্মেলন করেন। শায়রুল কবির খান উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া সর্বশেষ সমাবেশ করেন ২০১৭ সালে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট ৫০ পাউন্ডের কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন খালেদা জিয়া। ২০১৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রথম প্রহরে তিনি কেক না কাটলেও সন্ধ্যার পরে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন। আর ২০১৬ সালে বন্যা, গুম-খুনের কারণে কেক কাটেননি। ২০১৭ সালে জন্মদিনে লন্ডনে ছিলেন খালেদা জিয়া। এরপর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ৭৪তম জন্মদিনে তিনি ছিলেন পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে। এরপর আর কখন জন্মদিনে কেক কাটেননি বিএনপি চেয়ারপারসন।

গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

মোঃ সোহেল মিয়া,গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সদর উপজেলা ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প ও ইউনডিপি বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ৫ দিন ব্যাপী ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যম্প পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক জনাব নুরুল করিম ভূঁইয়া। মঙ্গলবার ৭ই এপ্রিল দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাসন ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্পে কর্তব্যরত সেবা দানকারীদের সাথে এ ক্যাম্পের উদ্দেশ্য এবং সেবা প্রদান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। এসময় বাসন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মাহ্ আলম কে প্রয়োজনে এ প্রচারণারকে আরও বেগবান ও গতিশীল করতে মসজিদ মাইকিং করারা নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। এ সেবা ক্যাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে অটোমেটেড ভূমি সেবা সিস্টেমে তথ্য সন্নিবেশ ও সংশোধন সংক্রান্ত ধারণা প্রদান করা।যাতে করে সহজেই সাধারণ মানুষ অটোমেটেড বা ডিজিটাল ভূমি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে। এসময় সাথে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন ভূমি অফিস সংলগ্ন ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুর খনন করলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সহ অগ্নিনির্বাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অবহিত করেন জেলা প্রশাসককে। পরে ভূমি সহকারী কর্মকতা মাহ্ আলমের কক্ষে থাকা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন জেলা প্রশাসক।এসময় ভূমি অভিযোগের মত কর্মচারীদের কাজের অভিগতির খোঁজখবর নেন দ্রুত সেবার মান নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করেন ও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মাহ্ আলমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।অয়োজকরা জানিয়েছেন ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা কার্যক্রম চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত । ৫ দিন ব্যাপী এ আয়োজন জনসাধারণের ডিজিটাল ভূমি সংক্রান্ত সেবা সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি হয়রানি ও জনদুর্ভোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখ

মোঃ সোহেল মিয়া, গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, শনিবার (৪এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে মহানগরের সদর মেট্রো থানার দুইটি গ্যাস সিলিন্ডার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি’র ডিলার পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নিয়ামত সড়কে অবস্থিত ‘জননী এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী মেজিস্ট্রেট।

অপরদিকে সদর মেট্রো থানার আওতাধীন দেশীপাড়া এলাকায় ‘খাজা গরিবে নেওয়াজ স্টিল বিতান’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অপরাধসহ নানা অসংগতির প্রমান পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ভোক্তা অধিকার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। জরিমানার বিষয়টিও তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

মধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
মধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

মোঃ সোহেল মিয়া, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় পার হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও চরম ভোগান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। মহানগরের অধিকাংশ পাম্প তেল না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে, আর যে কয়েকটি পাম্প খোলা রয়েছে সেখানে তেলের জন্য যানবাহনের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। মূলত মধ্যরাতেও তেলের জন্য অপেক্ষারত চালকদের এই হাহাকার দৃশ্যমান হচ্ছে মহানগরের প্রতিটি প্রান্তে।

সরেজমিনে তদন্তকালে দেখা যায়, গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন ঝাজর এলাকায় অবস্থিত ‘গাজীপুর সিটি ফিলিং স্টেশনে’ মধ্যরাতেও কয়েকশ যানবাহনের ভিড় লেগে আছে। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষ তেলের পরিমাণ সীমিত করে দেওয়ায় প্রয়োজনীয় পথ পাড়ি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেক চালককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতার পেছনে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে তেল সংগ্রহের প্রবণতা কমছে না। ফলে তেলের বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম ও প্রকৃত সংকটের মিশ্র রূপ দেখা দিয়েছে।

ভোগান্তিতে পড়া চালকরা জানান, তেলের এই তীব্র সংকটের কারণে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে লাইনে দাঁড়িয়ে সময়ের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পরিবহন মালিকরা। চালকদের শঙ্কা, যদি এই সংকট দ্রুত নিরসন করা না যায় তবে দেশের পরিবহন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর। গাজীপুরের মতো শিল্প ও পরিবহন সমৃদ্ধ এলাকায় এই সংকটের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গাজীপুরের জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। পাম্পগুলোতে তেলের সুষম বণ্টন এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে। পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজার দর এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে আমাদের পোর্টালের পরবর্তী আপডেটগুলোতে চোখ রাখুন।