শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম:
গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসকগাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখমধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারিশ্রীপুরে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিতTestশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনাসাংবাদিকদের সম্মানে শ্রীপুর প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিলtestঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রীপুরে শিক্ষা অফিসে দপ্তরিদের অবস্থান৬২ হাজার টাকায় কেনা বিড়াল অসুস্থ, টাকা ফেরত দিতে আইনি নোটিশশ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৬০ সালেই কলেজপড়ুয়া বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাডেট অফিসার জিয়াউর রহমানের বিয়ে হয়।

স্বাধীনতাযুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাস বেগম খালেদা জিয়া দুই সন্তানসহ গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার সংহতি ও বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

পরবর্তী সময়ে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে শহীদ হন।

সে সময় খালেদা জিয়া ছিলেন নিতান্তই একজন গৃহবধূ। দুই সন্তান নিয়ে তখন ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থান করছিলেন খালেদা জিয়া।

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তখন বিপর্যস্ত এবং দিশাহারা। জিয়াউর রহমানের পর দলের হাল কে ধরবেন, সেটি নিয়ে নানা আলোচনা চলতে থাকে।

১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন। বছরখানেক যেতে না যেতেই নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় প্রশংসা অর্জন করেন। পরের বছর মার্চে তিনি দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পদোন্নতি পান।

১৯৮২ সালের ৮ জানুয়ারি সংবাদপত্রে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল দেশ গঠনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেছিলেন। বিগত কিছুকাল যাবৎ আমি বিএনপির কার্যক্রম গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি।

দলের ঐক্য ও সংহতি বিপন্ন হতে পারে, এমন মনে করে আমাকে দলের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তাই দলের বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি ও দলের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছি।

দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং শহীদ জিয়ার গড়া দলে ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়া আমার লক্ষ্য।’
বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অসুস্থ হলে তিনি ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এবং একই বছরের ১০ মে চেয়ারপারসন পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে ১ সেপ্টেম্বর দলের চতুর্থ কাউন্সিলে দ্বিতীয়বার, ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তৃতীয়বার এবং ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের দশম কাউন্সিলে চতুর্থবারের মতো বিএনপির চেয়ারপারসন হন।

বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পরই নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েন খালেদা জিয়া। দল ঐক্যবদ্ধ রেখে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে কোনো রকম সমঝোতা না করেই আপসহীন আন্দোলন করে গেছেন। ফলে এরশাদের পতন ত্বরান্বিত হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। একটানা নিরলস ও আপসহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি।

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার ও ২০০১ সালে জোটগতভাবে নির্বাচন করে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

খালেদা জিয়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থায় (সার্ক) দুবার চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার একটি অনন্য রেকর্ড হচ্ছে— পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে ২৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সব কটিতেই তিনিই জয়ী হয়েছেন।

সেনাসমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়াকে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর তিনি আইনি লড়াই করে সব কটি মামলায় জামিন নিয়ে মুক্তি পান। কারাগারে থাকাকালে তাকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি যেতে অস্বীকার করেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হন। তার অভিযোগ, বলপ্রয়োগে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি ওই বাড়িটিতে ২৮ বছর ছিলেন। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার সেনানিবাসের বাড়িটি তার নামে বরাদ্দ দিয়েছিলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা হয়েছিল। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তার সাজা হয়েছিল। গত ৬ আগস্ট সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা মওকুফ করা হয়। একই সঙ্গে গত ২৭ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তিনি খালাস পান।

রাজনীতিতে যোগ দিয়েই স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আপসহীন নেত্রীতে পরিণত হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দুইবারের বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ওয়ান-ইলেভেনের সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দেশ ছাড়ার জন্য চাপ থাকলেও দেশ ছাড়েননি তিনি। এরপর বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। জেলও খাটতে হয়েছে তাকে। কিন্তু আপস করেননি।

কারাগারে থাকাবস্থায় খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। আওয়ামী লীগ আমলে তাকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে বিএনপি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো হলেও তাতে সরকার সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে মুক্তি দেন।

গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

মোঃ সোহেল মিয়া,গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সদর উপজেলা ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প ও ইউনডিপি বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ৫ দিন ব্যাপী ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যম্প পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক জনাব নুরুল করিম ভূঁইয়া। মঙ্গলবার ৭ই এপ্রিল দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাসন ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্পে কর্তব্যরত সেবা দানকারীদের সাথে এ ক্যাম্পের উদ্দেশ্য এবং সেবা প্রদান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। এসময় বাসন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মাহ্ আলম কে প্রয়োজনে এ প্রচারণারকে আরও বেগবান ও গতিশীল করতে মসজিদ মাইকিং করারা নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। এ সেবা ক্যাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে অটোমেটেড ভূমি সেবা সিস্টেমে তথ্য সন্নিবেশ ও সংশোধন সংক্রান্ত ধারণা প্রদান করা।যাতে করে সহজেই সাধারণ মানুষ অটোমেটেড বা ডিজিটাল ভূমি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে। এসময় সাথে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন ভূমি অফিস সংলগ্ন ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুর খনন করলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সহ অগ্নিনির্বাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অবহিত করেন জেলা প্রশাসককে। পরে ভূমি সহকারী কর্মকতা মাহ্ আলমের কক্ষে থাকা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন জেলা প্রশাসক।এসময় ভূমি অভিযোগের মত কর্মচারীদের কাজের অভিগতির খোঁজখবর নেন দ্রুত সেবার মান নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করেন ও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মাহ্ আলমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।অয়োজকরা জানিয়েছেন ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা কার্যক্রম চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত । ৫ দিন ব্যাপী এ আয়োজন জনসাধারণের ডিজিটাল ভূমি সংক্রান্ত সেবা সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি হয়রানি ও জনদুর্ভোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখ

মোঃ সোহেল মিয়া, গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, শনিবার (৪এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে মহানগরের সদর মেট্রো থানার দুইটি গ্যাস সিলিন্ডার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি’র ডিলার পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নিয়ামত সড়কে অবস্থিত ‘জননী এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী মেজিস্ট্রেট।

অপরদিকে সদর মেট্রো থানার আওতাধীন দেশীপাড়া এলাকায় ‘খাজা গরিবে নেওয়াজ স্টিল বিতান’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অপরাধসহ নানা অসংগতির প্রমান পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ভোক্তা অধিকার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। জরিমানার বিষয়টিও তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

মধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
মধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

মোঃ সোহেল মিয়া, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় পার হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও চরম ভোগান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। মহানগরের অধিকাংশ পাম্প তেল না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে, আর যে কয়েকটি পাম্প খোলা রয়েছে সেখানে তেলের জন্য যানবাহনের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। মূলত মধ্যরাতেও তেলের জন্য অপেক্ষারত চালকদের এই হাহাকার দৃশ্যমান হচ্ছে মহানগরের প্রতিটি প্রান্তে।

সরেজমিনে তদন্তকালে দেখা যায়, গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন ঝাজর এলাকায় অবস্থিত ‘গাজীপুর সিটি ফিলিং স্টেশনে’ মধ্যরাতেও কয়েকশ যানবাহনের ভিড় লেগে আছে। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষ তেলের পরিমাণ সীমিত করে দেওয়ায় প্রয়োজনীয় পথ পাড়ি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেক চালককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতার পেছনে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে তেল সংগ্রহের প্রবণতা কমছে না। ফলে তেলের বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম ও প্রকৃত সংকটের মিশ্র রূপ দেখা দিয়েছে।

ভোগান্তিতে পড়া চালকরা জানান, তেলের এই তীব্র সংকটের কারণে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে লাইনে দাঁড়িয়ে সময়ের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পরিবহন মালিকরা। চালকদের শঙ্কা, যদি এই সংকট দ্রুত নিরসন করা না যায় তবে দেশের পরিবহন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর। গাজীপুরের মতো শিল্প ও পরিবহন সমৃদ্ধ এলাকায় এই সংকটের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গাজীপুরের জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। পাম্পগুলোতে তেলের সুষম বণ্টন এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে। পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজার দর এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে আমাদের পোর্টালের পরবর্তী আপডেটগুলোতে চোখ রাখুন।