হিসাব রক্ষন কর্মকর্তার কমিশন বাণিজ্য বিভিন্ন দপ্তরের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
যুগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের শতাধিক প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (ইউএও) মো. সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে। কমিশন না দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা ও বিল অনুমোদনে জটিলতা সৃষ্টি করা হয় এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষা অফিসের উপবৃত্তি, সমাজসেবা ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পসহ স্পর্শকাতর অনেক ফাইলের ওপর বিশেষ নজর রয়েছে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কোন ফাইলের বিপরীতে কত টাকা কমিশন দিতে হবে তা আগেই বিশেষ মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। নির্ধারিত অর্থ ফাইলের সঙ্গে না গেলে নানা অজুহাতে নোটশিট বা টিপ্পনি দিয়ে বিল ফেরত দেওয়া হয়।
একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, এরপর শুরু হয় বেতনভাতা সংক্রান্ত বিল নিয়ে টানাপোড়েন। এতে নিয়ম মেনে কাজ করেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
এমন একটি ঘটনার কথা উঠে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন ফাতেমার ক্ষেত্রে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিয়ম মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় টিএ বিল দাখিল করলেও তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে বিলটি বাতিল হয়ে যায়।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, অনেক কর্মকর্তা অনিয়মে জড়াতে না চাইলেও বেতনভাতা ও চলমান প্রকল্প সচল রাখতে বাধ্য হয়ে অনৈতিক দাবি মেনে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে সমাজসেবা কার্যালয়ের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি এবং মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সরকারের ভর্তুকিতে দেওয়া সার ও বীজ কাগজে-কলমে ঠিক দেখিয়ে বাস্তবে কালোবাজারে চলে যাচ্ছে এমন অভিযোগও উঠেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুজন কর্মকর্তা গাজীপুর শিক্ষা অফিসে একই মিটিংয়ে গিয়েছিলেন। একজন ৮৭৫ টাকা, আরেকজন প্রায় চার হাজার টাকার বিল দিয়েছেন। একই মিটিংয়ের জন্য দুই রকম বিল হওয়ায় সেটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। অন্য অভিযোগগুলো সঠিক নয়।’









