মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩
শিরোনাম:
লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগমিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে শ্রীপুরে সংবাদ সম্মেলনবগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব উঠতে পারে নিকার সভায়চট্টগ্রাম থেকে ১৯ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরুনম্বর প্লেটেই আসল খেলা : ৬ লাখের সিএনজি ২৫ লাখ!গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসকগাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখমধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারিশ্রীপুরে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিতTestশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনা

নম্বর প্লেটেই আসল খেলা : ৬ লাখের সিএনজি ২৫ লাখ!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
নম্বর প্লেটেই আসল খেলা : ৬ লাখের সিএনজি ২৫ লাখ!
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

৬ লাখ টাকা বাজারমূল্যের একটি সিএনজি অটোরিকশার দাম ২৪-২৫ লাখ টাকা— শুনলে যে কারও চমকে ওঠার কথা। ঢাকা মহানগরীর সড়কের বাস্তব চিত্র ঠিক এমনই। ৬ থেকে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকায় একটি নতুন সিএনজি অটোরিকশা কেনা সম্ভব হলেও, সেটি ঢাকার রাস্তায় নামাতে খরচ গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ২৪-২৫ লাখ টাকায়। কিনতে গেলেই এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায় পড়েন ক্রেতারা, আর সেই সুযোগে সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে ৪-৫ গুণ। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন ‘টিনের চশমা’ পরে এই লুটপাট দেখছে।

ইতিহাস ও বর্তমান সংখ্যা

পেট্রোল বা ডিজেলের তুলনায় কম দূষণকারী হওয়ায় ২০০১ সাল থেকে ঢাকার সড়কে টু-স্ট্রোক অটোরিকশার (বেবিট্যাক্সি) পরিবর্তে সবুজ রঙের এই পরিবেশবান্ধব বাহনটির চলাচল শুরু হয়। ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ঢাকায় ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশা নামানো হয়। পরে মিশুকের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে আরও ২ হাজার ৬৯৬টি সিএনজির নিবন্ধন দেওয়া হয়। প্রতিটির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১৫ বছর।

সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদ ও ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা চালক ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মহানগরীতে চলমান বৈধ সিএনজির সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৯৬টি। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর তথ্য বলছে, শুরু থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় ২০ হাজার ৯৯৫টি অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫ হাজার ৬৩৭টি ও ৬ হাজার ৮৩৯টি নিবন্ধন দেওয়া হয়। অথচ গত পাঁচ বছরে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪৪৫টি নিবন্ধন। দিন যত যাচ্ছে, সিএনজি অটোরিকশা যেন মালিকদের কাছে ‘সোনার হরিণে’ পরিণত হচ্ছে। একবার কেউ একটি সিএনজি কিনতে পারলে তার আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না। তবে, সেটি কিনতে গিয়ে পেরোতে হয় এক বিশাল গোলকধাঁধা।

কী এই গোলকধাঁধা?

বাংলাদেশের বাজারে একটি সিএনজি অটোরিকশার শোরুম মূল্য ৫ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা। কিন্তু কিনলেই তো আর রাস্তায় নামানোর নিবন্ধন (নম্বর প্লেট) পাওয়া যায় না। বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিএনজির ১৫ বছরের আয়ুষ্কাল শেষ হলে সেটি বাতিল করে একই মালিককে নতুন গাড়ি প্রতিস্থাপনের (রিপ্লেসমেন্ট) সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে নতুন করে কেউ সহজে নিবন্ধন নিতে পারেন না। এই সীমাবদ্ধতার সুযোগেই গড়ে উঠেছে বিশাল অবৈধ বাণিজ্য।

সিএনজির চালকরা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, ৬ লাখ টাকায় গাড়ি কিনে সরকারি কাগজপত্রের জন্য মাত্র ১২ হাজার ৪৩৯ টাকা খরচ করলেই মালিক হওয়া সম্ভব কাগজে-কলমে। কিন্তু বাস্তবে তা অসম্ভব।

কেন পারবেন না— এর জবাবে তারা জানিয়েছেন, ৬ লাখ টাকার গাড়ির দাম ২৫ লাখে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে দালাল, মালিক ও ট্রাফিক পুলিশের এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। নতুন নিবন্ধন বন্ধ থাকায় পুরোনো একটি নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন প্লেট কিনতেই দালালদের মাধ্যমে দিতে হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। দালালরা ক্রেতা ও বিক্রেতা— উভয় পক্ষ থেকেই টাকা নিয়ে এই বেআইনি বাণিজ্যের সমন্বয় করে।

যেখানে নম্বরসহ একটি নতুন সিএনজি অটোরিকশার প্রকৃত খরচ হওয়ার কথা বড়জোর ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা, সেখানে শুধু পুরোনো নম্বর পেতেই খরচ পড়ছে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। এর সঙ্গে পুরোনো ভাঙাচোরা গাড়িটির জন্য মূল মালিককে দিতে হয় আরও ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে একটি নতুন সিএনজি রাস্তায় নামাতে ২৪ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। মূলত সিএনজি নিবন্ধনের সুযোগ উন্মুক্ত না থাকার কারণেই এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা চালক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শেখ হানিফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত দুই যুগে (২০০২ থেকে ২০২৬ সাল) ঢাকা শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়লেও সিএনজির সংখ্যা বাড়েনি। সিএনজির ১৫ বছরের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পর তৎকালীন প্রভাবশালী ও অসাধু শ্রমিক নেতা শাজাহান খান এবং ওসমান আলীসহ অনেকেই নতুন সিএনজি নামানোর অনুমতি না দিয়ে পুরোনো নম্বর প্লেটগুলোতেই ‘রিপ্লেসমেন্ট’ বা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সারা বিশ্বে পুরোনো জিনিসের দাম কমে, কিন্তু ঢাকার সিএনজির ক্ষেত্রে ঘটছে ঠিক উল্টো। এখানে পুরো খেলাই হচ্ছে নম্বর প্লেট নিয়ে। যে নম্বর প্লেটের সরকারি মূল্য মাত্র ১২ হাজার ৪৩৯ টাকা, নতুন নম্বর দেওয়া বন্ধ থাকায় সেটিই কালোবাজারে নতুন সিএনজিসহ ২৪ থেকে ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

এই খাতের একজন অভিজ্ঞ চালক জানান, ২০০২ সালের দিকে যারা এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৫০-৬০টি গাড়ির চেসিস নিয়ে এই ব্যবসায় নেমেছিলেন, তারা আজ ২০০-২৫০ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বর্তমানে ঢাকার ১৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মাত্র এক হাজার মালিকের হাতে। আর এই স্বল্পসংখ্যক মালিক নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রায় ৫০ হাজার চালককে। তার মতে, এই চালকদের মাধ্যমেই প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রায় ৫০ লাখ যাত্রী। আর এই যাত্রী ভোগান্তির একটি বড় কারণ হলো, চালকদের কোনো বৈধ নিয়োগপত্র নেই।

সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায় ‘বিফকেস পার্টি’!

সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. বরকত উল্লাহ ভুলু ঢাকা পোস্টকে বলেন, ২০০১ সালে আমি প্রথম সিএনজি কিনেছি এক লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকায়। সেই গাড়ির দাম এখন বাড়তে বাড়তে কোম্পানিতে প্রায় ৭ লাখ টাকার কাছাকাছি। এত বছরে চাহিদা বাড়লেও গাড়ি বাড়েনি। সরকারের ছোট গাড়িতে মনোযোগ নাই। সরকার চায় বড় গাড়ি। একটা বাসে ৫০ জন বসতে পারে, আর একটা সিএনজিতে বসতে পারে তিনজন। তিন সিএনজি সমান জায়গা লাগে একটি বাসে, যেখানে তিন সিএনজিতে বসতে পারে ড্রাইভারসহ ১২ জন, সেখানে একটি বাসে বসতে পারে ৫০ জন। তাই সরকার এটাকে বাড়তে চায় না।

সিএনজির দাম ২৪-২৫ লাখ টাকায় পৌঁছানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মানুষের হাতে এখন অনেক অবৈধ টাকা রয়েছে। সেই টাকা বৈধ করতে অনেকে সিএনজি ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন। তারাই পুরোনো সিএনজির নিবন্ধন লাখ লাখ টাকায় কিনছেন। বর্তমানে বৈধ গাড়ি আছে ১৫ হাজার ৬৯৬টি। এই সীমিত সংখ্যার মধ্যেই ঘুষ বাণিজ্যের অবৈধ টাকা নিয়ে ‘বিফ্রকেস পার্টি’র লোকজন বিনিয়োগ করছেন। ফলে সিএনজি এখন আর সাধারণ চালক বা মানুষের নাগালের মধ্যে নেই।”

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘সিএনজি ছোট খাত হওয়ায় সরকারের তেমন মনোযোগ নেই। ফলে খাতটি দিনদিন অস্থির হয়ে উঠছে। বিশ্ব এগিয়ে গেলেও আমরা এখনও পুরোনো ব্যবস্থার মধ্যেই আটকে আছি। দূষণের শীর্ষে থাকা একটি শহরে খোলা বাহন আর উপযুক্ত নয়। আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে উন্নত ট্যাক্সিক্যাব চালু করা প্রয়োজন।’

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সিএনজির দামের এই অস্থিরতা থামাতে হলে নীতিগতভাবে নিবন্ধনের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে হবে। তা না হলে সমস্যার সমাধান হবে না। এই নিষেধাজ্ঞার কারণেই হাতবদলের মাধ্যমে সিএনজির দাম ২৫-২৭ লাখ টাকায় পৌঁছেছে এবং পুরো খাতটি একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু নিবন্ধন চালু করলেই হবে না, সড়কের সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রতিটি খাতেরই একটি সীমা থাকে। সরকার নিবন্ধন না দিলে কিন্তু রাজস্বও হারাচ্ছে। কারণ, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিবন্ধন ছাড়াই সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে, যা কোনোভাবেই ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না।’

মহানগরীতে যুক্ত হতে পারে নতুন এক হাজার সিএনজি : বিআরটিএ

সিএনজি অটোরিকশার নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঢাকা মহানগর সম্প্রসারণ হওয়াতে ঢাকা জেলার (ঢাকা-থ) চালকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা ঢাকা মেট্রোতে এক হাজার সিএনজি অটোরিকশা চান— এমন আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এক হাজার নতুন সিএনজি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘সিএনজি তো লিমিট করে দেওয়া হয়েছে। এখন মূল সমস্যা হচ্ছে অটোরিকশা। তারা রাস্তায় যানজট করে ফেলছে। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা শহরে আরও কিছু সিএনজির নিবন্ধন ইজিলি দেওয়া যায়। এখন পর্যন্ত সিএনজির সিলিং ১৫ হাজার ৬৯৬টি, সেটিই আছে। আমরা নতুন করে এক হাজার সিএনজি দেওয়া প্রস্তাব পাঠিয়েছি, এখন সেটা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত।’

হজ ব্যবসায় ব্যস্ত প্রভাষক

লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের ইবতেদায়ী শাখার শিক্ষিকা আলেয়া আক্তার প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, আরবি বিভাগের প্রভাষক গোলাম কিবরিয়া হজ্ব ও উমরার ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত পাঠদানে মনোযোগী নন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, তিনি বছরে দুইবার করে সৌদি আরব যান এবং গত দুই বছরে অন্তত চারবার সেখানে গিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলেয়া আক্তার ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রথমদিকে তিনি একজন প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগ দিলেও কয়েক মাস পর সেই শিক্ষকও চলে যান। ফলে ইবতেদায়ী শাখার শিক্ষার্থীরা কার্যত শিক্ষকশূন্য অবস্থায় পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে। অনেক শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকেন না এবং শ্রেণি কার্যক্রমে অবহেলা করেন। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছেমতো পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফি উদ্দিন আহমেদ বলেন,আলেয়া আক্তার ১১ মাস অনুপস্থিত থাকার পর গত মাস থেকে তার বেতন বন্ধ করা হয়েছে। অপর শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া হজ্ব ও উমরার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তিনি গত বছর সৌদি আরব গিয়েছিলেন এবং এ বছরও যাওয়ার আবেদন দিয়েছেন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগতি করেছি।

অভিযুক্ত দুইজন শিক্ষকের মুঠোফোনে একধিক বার যোগাযোগের চেষ্ঠা করলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে শ্রীপুরে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে শ্রীপুরে সংবাদ সম্মেলন

গাজীপুরের শ্রীপুরে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) মাওনা চৌরাস্তায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন মিথ্যা মামলা দিয়ে মো: ফিরুজ আহমেদসহ তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ফিরুজ আহমেদ বলেন,
“দীর্ঘ দিন ধরে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন হাজি মো. নুরুজ্জামান, মো: ফিরুজ আহমেদ এবং তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
বক্তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব উঠতে পারে নিকার সভায়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব উঠতে পারে নিকার সভায়

দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় উঠতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শিগগিরই এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে প্রাক-নিকার সচিব কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবটি উপস্থাপনের পর তা অনুমোদন পেয়েছে। পরবর্তী নিকার সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের বিধিমালা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন হওয়ার প্রায় সব শর্তই বগুড়া পূরণ করেছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী এখানকার স্থায়ী জনসংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০০ হলেও বাস্তবে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব ৬ হাজারের বেশি।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও বগুড়া শক্ত অবস্থানে রয়েছে। পৌরসভার বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। পাশাপাশি এখানে সিরামিক, ফাউন্ড্রি, ওষুধ, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ প্রায় ২০ হাজার শিল্প-প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বগুড়া সদর ও শাহজাহানপুর উপজেলার কিছু ইউনিয়ন যুক্ত করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। নিকার সভায় অনুমোদন পেলে বগুড়া হবে দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন।