গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২৩১টি ভোটকেন্দ্র সংস্কারের নামে ৪১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা বেয় করে। সারাদেশের মতন শ্রীপুর উপজেলায় ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের তীর খোদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের দিকে।
সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বরাদ্দের টাকা লোপাট করতে অপ্রয়োজনীয় ও তুচ্ছ কাজকে বড় খরচ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
যোগীর ছিট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: এই বিদ্যালয়ে বরাদ্দ ছিল ৩৩,৩৩৩ টাকা। প্রধান শিক্ষক হাতে পেয়েছেন ২৬,০০০ টাকা। এই সামান্য টাকায় টয়লেট পরিষ্কার, পুরনো বৈদ্যুতিক ওয়ারিং মেরামত এবং কিছু বাল্ব কেনা দেখানো হয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার বেসিনে একটি পানির কল পর্যন্ত লাগানো হয়নি।
ধামলই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৩৩,৩৩৩ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে প্রধান শিক্ষক পেয়েছেন ২৪,৬০০ টাকা। এই টাকায় মাত্র ৩টি ফ্যান, কয়েক জোড়া তালা ও কিছু বাল্ব কেনা হয়েছে।
২ নং গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কোহিনুর বেগমকে দেড় লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। বিপুল এই অর্থ দিয়েও কেবল ৩টি ফ্যান, দরজা-জানালা ও টয়লেট মেরামতের সাধারণ কাজ দেখানো হয়েছে অথচ শহীদ মিনার রং করার মত ২ হাজার টাকা হয়নি।
ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্কুলের দরজা-জানালা, বাল্ব ও গেট মেরামতের দাবি করেছেন শিক্ষিকা নূরজাহান বেগম।
মুলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক অনুকুল সরকার এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন তিনি অন্যান্য স্কুলের মত টয়লেট তালা গ্রিল গেট দরজা জানালা মেরামত করেছেন, তিনি বলছেন এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার কাজে এক লক্ষ ৪২ হাজার টাকা খরচ করেছেন কাজ করে আরো বিশ হাজার টাকার লস।
দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ যখন শিক্ষা অফিসার
অভিযোগ উঠেছে, এই অর্থ আত্মসাতের পুরো ছকটি তৈরি করেছেন শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন। তিনি শুধু দুর্নীতির সুযোগই করে দেননি, বরং বরাদ্দকৃত টাকা থেকে নিজের ভাগও বুঝে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গণমাধ্যম বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন এড়াতে তিনি শিক্ষকদের বিশেষ ‘কৌশল’ শিখিয়ে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সামনে কী বলতে হবে এবং কীভাবে তথ্য গোপন করতে হবে, সে বিষয়েও তিনি শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এবিষয়ে বক্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্তরা
অর্থ আত্মসাতের এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি নিজের মতো করে সাজানো কিছু তথ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। এবং সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে অন্য দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়ে মূল ঘটনাকে ধামাচাপার দেওয়ার চেষ্টা করে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, সরকারি এই বরাদ্দের টাকা যদি সঠিকভাবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হতো, তবে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হতো। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই অর্থ লোপাট হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। তারা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]