ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ
এনওসি নিতে সাংবাদিককে তিন দিন ধরে হয়রানি!
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) নিতে গিয়ে তিন দিন ধরে চরম হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ। তিনি ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভার-এ কর্মরত।
অভিযোগে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফারুক আহমেদ নানা অজুহাতে তাকে বারবার ঘুরিয়ে-পাকিয়ে হয়রানি করছেন এবং এনওসি দেওয়ার বিনিময়ে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন।
সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ বলেন, “একদিন বলা হলো আজ সময় নেই, পরদিন বলা হলো আগামীকাল আসতে, আবার কখনো বলা হলো পরশু দেওয়া হবে। তিন দিন ধরে ঘুরাচ্ছে, কিন্তু কোনো কাজের অগ্রগতি নেই। উপরন্তু এনওসি দেওয়ার কথা বলে সচিব তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। আমি কখনো ঘুষ দিই না, দিবোও না। দেখি কতদিন আমাকে হয়রানি করতে পারে। বর্তমান সময়ের মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সেবার এটাই বাস্তব চিত্র।”
এনওসি পাওয়ার জন্য ট্যাক্স পরিশোধ বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে ফয়সাল জানান, তার তিন কক্ষের বাড়ির জন্য তিনি ২০২২ সাল পর্যন্ত বছরে মাত্র ২০০ টাকা করে ট্যাক্স দিয়েছেন। কিন্তু এবার কোনো পূর্বঘোষণা বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই প্রতিটি কক্ষের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা করে দাবি করা হয়েছে।
তার অভিযোগ, ট্যাক্স বৃদ্ধি সংক্রান্ত নীতিমালা বা ব্যাখ্যা পরিষদের কেউই দিতে পারেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাওনা ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে কোনো নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকায় পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ নেতা মতিউর রহমান। তবে অভিযোগ রয়েছে—তিনি নাকি ‘গোপনে’ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীর সহযোগিতায় পরিষদ পরিচালনা করছেন।
ফলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে চরম বিশৃঙ্খলা। ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদে দ্রুত একজন প্রশাসক নিয়োগ দিলে সেবার মান স্বচ্ছ, সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত হবে।
তারা আরও বলেন, সদ্য বদলি হয়ে আসা সচিব ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযুক্ত ইউপি সচিব ফারুক আহমেদের মোবাইল নম্বর ০১৭১৭৩৫০০৬৭-এ একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সচিব ফারুক আহমেদকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]