খুঁজুন
বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১১ চৈত্র, ১৪৩২

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন

সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করলে আদালত অবমাননার দায় নিতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করলে আদালত অবমাননার দায় নিতে হবে

ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদালত অবমাননাকর কার্যক্রমের জন্য আইনানুগভাবে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মীদের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে সুপ্রিম কোর্টের মিডিয়া ফোকাল পার্সন অথবা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাই করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উক্তরূপ আদালত অবমাননাকর কার্যক্রমের জন্য আইনানুগভাবে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করায় আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এবং বেঞ্চ প্রদান না করায় হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি ছুটিতে গিয়েছেন- এরূপ ভুল সংবাদ টিভি স্ক্রলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে; যা সম্পূর্ণরূপে অসত্য, বিভ্রান্তকর ও অত্যন্ত দুঃখজনক। গণমাধ্যমে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে জনমনে ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তদুপরি, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন আদালত অবমাননার শামিল। অথচ সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের পূর্বে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা যদি সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি থেকে সংবাদের যথার্থতা যাচাই করতেন, তবে এহেন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম তার মায়ের অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটি গ্রহণ করেছেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সাময়িকভাবে বিচারকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। এই বিষয়গুলোর সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের ভাতা থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘পিইডিপি-৪’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের জন্য শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অনুকূলে প্রায় ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে, বরাদ্দের বড় একটি অংশ নয়ছয় করা হয়েছে।
উপজেলায় মোট সাতটি ক্লাস্টারে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, বছরে চারবার সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথা। প্রতি তিন মাস অন্তর ৩০ জন শিক্ষককে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্ধারিত বিদ্যালয়কে ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওই বিদ্যালয়কেই প্রশিক্ষণার্থীদের খাবার ও নাস্তার ব্যবস্থা করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর জন্য সরকারিভাবে ৫৪০ টাকা এবং কোর্স ম্যাটেরিয়াল বাবদ অতিরিক্ত ৪৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও এ বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা রাখা হয় না। বরং নিন্মমানের খাবার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এটিইউদের মাধ্যমে খাবার ও উপকরণ সরবরাহে অনিয়ম করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগম বলেন, ‘প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর জন্য আমরা ৪০০ টাকা করে পেয়েছি।’ অন্যদিকে তেলিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা ২০০ টাকা করে পেয়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনির হোসেন দাবি করেন, বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ আইটি বাবদ কর্তন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২০১৭ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিনের বিরুদ্ধে।

পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’

জন্মের পর কেউ দেখেনি বাবার মুখ, কেউ জানে না মায়ের পরিচয়। তবুও তারা থেমে নেই স্বপ্ন দেখে, হাসে, বড় হওয়ার স্বপ্ন বুনে। এমন শত শত পরিচয়হীন ও অসহায় শিশুদের পরম মমতায় আগলে রেখেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা এলাকায় অবস্থিত ‘শিশু পল্লী প্লাস’। এবারের ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছুয়ে গেছে প্রতিটি হৃদয়। আনন্দে হাসি হৈহুল্লুরে কেটেছে এবারের ঈদ।

প্রায় ৩৭ বছর ধরে নিভৃতে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৮৯ সালে ব্রিটিশ নাগরিক প্যাট্রিশিয়া কার-এর একক উদ্যোগে ৫১ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠে এই আশ্রয়কেন্দ্র। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এখানে আশ্রয় পেয়েছেন ১১১ জন অসহায় মা এবং ২৫৬ জন শিশু। সম্পূর্ণ বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান শুধু আশ্রয়ই দেয় না নিশ্চিত করে থাকা-খাওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।

এখানে বেড়ে ওঠা অনেক শিশুই তাদের প্রকৃত পরিচয় জানে না। তবে বড় হওয়ার পর তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা পায় যা মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য উদাহরণ। একই চত্বরে রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা প্রার্থনাগার, যা সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সুন্দর চিত্র তুলে ধরে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, সমাজের অবহেলিত, বিধবা ও বঞ্চিত মা ও শিশুদের এখানে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দেওয়া হয়। এবারের ঈদে তাদের আনন্দের জন্য সবকিছুই দেয়া হয়েছে। ঈদের দিন স্পেশাল খাবারের আয়োজনরকরা হয়। তাদের সব ধরনের প্রয়োজন পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। এখান থেকে অনেক শিশু উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা এই উদ্যোগের সফলতার বড় প্রমাণ। ১০১ জন কর্মী তিন শিফটে ভাগ হয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন এই নিরাশ্রয় মানুষদের জন্য।

সবুজে ঘেরা এই প্রাঙ্গণে রয়েছে মেয়েদের ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার মাঠ। প্রতিবছর এখান থেকে অনেক মেয়ে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। শুধু শিক্ষা বা খেলাধুলা নয়, উৎসবেও পিছিয়ে নেই তারা। ঈদ এলে নতুন পোশাক, উন্নত খাবার, নাচ-গান আর আনন্দে ভরে ওঠে পুরো পরিবেশ—ঠিক যেন একটি সাধারণ পরিবারের মতো।

মহিয়সী নারী প্যাট্রিশিয়া কার-এর এই মানবিক উদ্যোগ আজ শত শত শিশুর মুখে হাসি ফুটিয়েছে। রক্তের সম্পর্কের বাইরে থেকেও যে ভালোবাসা দিয়ে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়া সম্ভব শিশু পল্লী প্লাস’ তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।

গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনা

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বিধান কৃষ্ণ বর্মনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শ্রীপুর উপজেলার আনসার টেপের বাড়ি এলাকায় তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্যকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই মিলে সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং কুশল বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই সংবর্ধনার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু সংবর্ধনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এলাকার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।