খুঁজুন
বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১১ চৈত্র, ১৪৩২

যশোরে তারেক রহমানের জনসভা লোকে লোকারণ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
যশোরে তারেক রহমানের জনসভা লোকে লোকারণ্য

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা ঘিরে যশোর শহর এখন লোকে লোকারণ্য। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে জনসভাস্থল যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে পুরো মাঠ এবং আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বর্ণময় সাজে সজ্জিত হয়ে, নেচে-গেয়ে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলের দিকে আসতে থাকেন। তাদের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা যশোর শহর।

সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছান। এর আগে, বেলা ১১টার পর উপশহর কলেজের বিশাল মাঠ জনসমাগমে প্রায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি আজ চোখে পড়ার মতো। সবার কপালে পতাকা, মাথায় টুপি। এক এক গ্রুপ এক এক ধরনের সাজে সজ্জিত হয়ে সভাস্থলে আসেন।

সকাল থেকে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সজ্জিত হয়ে ছোট ছোট শিশুদের মাঠজুড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। অনেকে পুরো শরীরে পাকা ধানের শীষ জড়িয়ে নিয়ে এসেছেন। কারো হাতে রয়েছে জাতীয় পতাকা। কেউ ধরে আছেন দলীয় পতাকা। মুখে সবার একটাই স্লোগান ‘তারেক জিয়া আসছে, যশোরবাসী হাসছে’, ‘তারেক জিয়া আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’।

যশোরের আট উপজেলা ছাড়াও মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।

বাঘারপাড়ার জহুরপুর থেকে আসা নুরনবী নামে এক বিএনপি কর্মী বলেন, দীর্ঘ ত্যাগ স্বীকার করে বিএনপির চেয়ারম্যান দেশে ফিরেছেন। কখনও তাকে সরাসরি না দেখলেও আজ তাকে সরাসরি দেখছি। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তিনি যশোর থেকে নানা পরিকল্পনা দেবেন। তার আগমনকে ঘিরে সমগ্র যশোর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

মণিরামপুর থেকে আসা আজগর আলী বলেন, ফজরের নামাজ পড়েই জনসভায় এসেছি। সামনে থেকে তারেক রহমানকে দেখবো বলে। তার বক্তব্য শুনবো বলে। তিনি যেভাবে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সময়ে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আগামীতে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশকে আরও ভালোভাবে নেতৃত্ব দেবেন।

অভয়নগর থেকে আসা বিএনপিকর্মী রিয়াজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য এবং তার মুখ থেকে নির্বাচনী বার্তা ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের দিকনির্দেশনা শোনার জন্য তিনি সমাবেশে এসেছেন।

সোমবার ভোর থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা সমাবেশস্থলে অবস্থান করছেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জেলা পুলিশ। তারা যশোর-মাগুরা, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-খুলনা, যশোর-নড়াইল সড়কে অবস্থান করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিএনপি নেতা কর্মীদের গাড়িবহর নির্দিষ্ট স্থানে রাখার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এর আগে ডগস্কোয়াড দিয়ে মাঠ রেকি করে গেছে র‌্যাবের একটি টিম।

এদিকে, যশোর উপশহর বিরামপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। এখানে তারেক রহমানের হেলিকপ্টার এসে অবতরণ করবে। সেখান থেকে তিনি লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসে করে হাজির হবেন সমাবেশস্থলে।

সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের ভাতা থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘পিইডিপি-৪’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের জন্য শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অনুকূলে প্রায় ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে, বরাদ্দের বড় একটি অংশ নয়ছয় করা হয়েছে।
উপজেলায় মোট সাতটি ক্লাস্টারে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, বছরে চারবার সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথা। প্রতি তিন মাস অন্তর ৩০ জন শিক্ষককে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্ধারিত বিদ্যালয়কে ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওই বিদ্যালয়কেই প্রশিক্ষণার্থীদের খাবার ও নাস্তার ব্যবস্থা করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর জন্য সরকারিভাবে ৫৪০ টাকা এবং কোর্স ম্যাটেরিয়াল বাবদ অতিরিক্ত ৪৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও এ বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা রাখা হয় না। বরং নিন্মমানের খাবার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এটিইউদের মাধ্যমে খাবার ও উপকরণ সরবরাহে অনিয়ম করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগম বলেন, ‘প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর জন্য আমরা ৪০০ টাকা করে পেয়েছি।’ অন্যদিকে তেলিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা ২০০ টাকা করে পেয়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনির হোসেন দাবি করেন, বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ আইটি বাবদ কর্তন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২০১৭ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিনের বিরুদ্ধে।

পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’

জন্মের পর কেউ দেখেনি বাবার মুখ, কেউ জানে না মায়ের পরিচয়। তবুও তারা থেমে নেই স্বপ্ন দেখে, হাসে, বড় হওয়ার স্বপ্ন বুনে। এমন শত শত পরিচয়হীন ও অসহায় শিশুদের পরম মমতায় আগলে রেখেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা এলাকায় অবস্থিত ‘শিশু পল্লী প্লাস’। এবারের ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছুয়ে গেছে প্রতিটি হৃদয়। আনন্দে হাসি হৈহুল্লুরে কেটেছে এবারের ঈদ।

প্রায় ৩৭ বছর ধরে নিভৃতে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৮৯ সালে ব্রিটিশ নাগরিক প্যাট্রিশিয়া কার-এর একক উদ্যোগে ৫১ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠে এই আশ্রয়কেন্দ্র। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এখানে আশ্রয় পেয়েছেন ১১১ জন অসহায় মা এবং ২৫৬ জন শিশু। সম্পূর্ণ বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান শুধু আশ্রয়ই দেয় না নিশ্চিত করে থাকা-খাওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।

এখানে বেড়ে ওঠা অনেক শিশুই তাদের প্রকৃত পরিচয় জানে না। তবে বড় হওয়ার পর তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা পায় যা মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য উদাহরণ। একই চত্বরে রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা প্রার্থনাগার, যা সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সুন্দর চিত্র তুলে ধরে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, সমাজের অবহেলিত, বিধবা ও বঞ্চিত মা ও শিশুদের এখানে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দেওয়া হয়। এবারের ঈদে তাদের আনন্দের জন্য সবকিছুই দেয়া হয়েছে। ঈদের দিন স্পেশাল খাবারের আয়োজনরকরা হয়। তাদের সব ধরনের প্রয়োজন পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। এখান থেকে অনেক শিশু উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা এই উদ্যোগের সফলতার বড় প্রমাণ। ১০১ জন কর্মী তিন শিফটে ভাগ হয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন এই নিরাশ্রয় মানুষদের জন্য।

সবুজে ঘেরা এই প্রাঙ্গণে রয়েছে মেয়েদের ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার মাঠ। প্রতিবছর এখান থেকে অনেক মেয়ে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। শুধু শিক্ষা বা খেলাধুলা নয়, উৎসবেও পিছিয়ে নেই তারা। ঈদ এলে নতুন পোশাক, উন্নত খাবার, নাচ-গান আর আনন্দে ভরে ওঠে পুরো পরিবেশ—ঠিক যেন একটি সাধারণ পরিবারের মতো।

মহিয়সী নারী প্যাট্রিশিয়া কার-এর এই মানবিক উদ্যোগ আজ শত শত শিশুর মুখে হাসি ফুটিয়েছে। রক্তের সম্পর্কের বাইরে থেকেও যে ভালোবাসা দিয়ে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়া সম্ভব শিশু পল্লী প্লাস’ তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।

গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনা

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বিধান কৃষ্ণ বর্মনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শ্রীপুর উপজেলার আনসার টেপের বাড়ি এলাকায় তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্যকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই মিলে সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং কুশল বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই সংবর্ধনার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু সংবর্ধনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এলাকার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।