খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

যশোরে তারেক রহমান

১৯৭১ সালেই প্রমাণ হয়েছে মা-বোনদের জন্য এদের দরদ নেই

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
১৯৭১ সালেই প্রমাণ হয়েছে মা-বোনদের জন্য এদের দরদ নেই

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালেই প্রমাণ হয়েছে মা-বোনদের জন্য এদের দরদ নেই। ৭১ সালে তাদের কারণে লক্ষ লক্ষ মা-বোন তাদের ইজ্জত হারিয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে কলঙ্কজনক মন্তব্য করে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে যারা অসম্মান করে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেয়, তারা আর যাই হোক দেশদরদী বা জনদরদী হতে পারে না।

প্রতিপক্ষ দলের নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের পর আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাতকে মিথ্যাচার হিসেবে অভিহিত করে  তিনি বলেন, তীব্র সমালোচনার মুখে তারা এখন বলছে আইডি হ্যাক হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি অসম্ভব। একটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে এভাবে মিথ্যা বলছেন। যারা অবলীলায় মিথ্যা বলে, তারা কখনোই দেশের মঙ্গল করতে পারে না। তারা সমগ্র জাতির সামনে নিজেদের রক্ষা করতে মিথ্যা কথা বলেছে। তারা বন্ধু হতে পারে না।

তারেক রহমান বলেন, তাদের নারী কর্মীরাও তো ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে যায়। সেই নারী কর্মীদের বলতে চাই আপনার নেতারা দেখুন কি নোংরা কথা বলে।

তিনি বলেন, তারা বলে ইসলাম কায়েম করবে, অথচ আমাদের নবী (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) নিজেও একজন ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী নারী ছিলেন। এই দলটির পূর্বসূরীরা ১৯৭১ সালেও মা-বোনদের অসম্মানিত করেছিল। এদের কাছে দেশের মানুষ বা নারী সমাজ কখনোই নিরাপদ হতে পারে না।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন বানচাল করতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, ভোটের অধিকার যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে। দীর্ঘ বছর পর জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে আপনারা আপনাদের অধিকার ফিরে পাবেন ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত প্রার্থী বাদলের মৃত্যু, শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
জামায়াত প্রার্থী বাদলের মৃত্যু, শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই আসনে এখন নতুন করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. আবুল কালাম আজাদ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দ্রুত ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আইন অনুযায়ী নির্বাচনী বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোট গ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে।

আইন অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। প্রার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিলের ঘোষণা দেবেন এবং পরবর্তী সময়ে কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করবে।

তবে আইনে কিছু বিশেষ ব্যতিক্রমও রয়েছে। যদি মৃত ব্যক্তি বৈধ প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হওয়ার আগেই মারা যান অথবা ওই আসনে একই দলের বিকল্প কোনো বৈধ প্রার্থী বিদ্যমান থাকে, তবে নির্বাচন স্থগিত করার প্রয়োজন পড়ে না।

সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান, ‎বেলস পার্ক যেন জনসমুদ্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান, ‎বেলস পার্ক যেন জনসমুদ্র

‎বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানের মঞ্চে অবস্থান করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত নির্বাচনী জনসমাবেশের মূল কার্যক্রম। দীর্ঘ ২০ বছর পর তারেক রহমানের বরিশাল আগমনকে ঘিরে মাঠজুড়ে নেতাকর্মীদের ঢল এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সড়ক ও নৌপথে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছেন।

‎দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের সব প্রার্থী উপস্থিত রয়েছেন।
‎সমাবেশস্থলে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। ধানের শীষের প্রতীক, বেলুন, ব্যানার ও ফেস্টুনে সেজেছে পুরো বেলস পার্ক মাঠ। ‎বেলস পার্ক যেন জনসমুদ্র। স্লোগান আর করতালিতে মুখর পরিবেশে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ভোর থেকেই নেতাকর্মীদের মাঠে আসা শুরু হয়।‎ নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী। মঞ্চের দিকে তাকিয়ে স্লোগান আর করতালির মাধ্যমে তারা নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার সরাসরি দিকনির্দেশনা শোনার প্রত্যাশায় পুরো সমাবেশস্থল জুড়ে উত্তেজনা ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৬ অপরাহ্ণ
রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। এসময় উভয়পক্ষের ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।

নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহতরা হলেন- সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫)। বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর আগেও একাধিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এলাকায় এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদ মিয়া।

এই বিরোধের জেরে বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়নার ছোড়া গুলিতে শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।

নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না তাকে গুলি করে। আমরা কোনো দলের নই। যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।