খুঁজুন
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র, ১৪৩২

নেপথ্যে শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন

শ্রীপুরে প্রাথমিক স্কুলের ভোট কেন্দ্র মেরামতের লাখ লাখ টাকা লোপাট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে প্রাথমিক স্কুলের ভোট কেন্দ্র মেরামতের  লাখ লাখ টাকা লোপাট

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২৩১টি ভোটকেন্দ্র সংস্কারের নামে ৪১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে। সারাদেশের মত শ্রীপুর উপজেলায় ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের তীর খোদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের দিকে।

​সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বরাদ্দের টাকা লোপাট করতে অপ্রয়োজনীয় ও তুচ্ছ কাজকে বড় খরচ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
​যোগীর ছিট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: এই বিদ্যালয়ে বরাদ্দ ছিল ৩৩,৩৩৩ টাকা। প্রধান শিক্ষক হাতে পেয়েছেন ২৬,০০০ টাকা। এই সামান্য টাকায় টয়লেট পরিষ্কার, পুরনো বৈদ্যুতিক ওয়ারিং মেরামত এবং কিছু বাল্ব কেনা দেখানো হয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার বেসিনে একটি পানির কল পর্যন্ত লাগানো হয়নি।

​ধামলই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৩৩,৩৩৩ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে প্রধান শিক্ষক পেয়েছেন ২৪,৬০০ টাকা। এই টাকায় মাত্র ৩টি ফ্যান, কয়েক জোড়া তালা ও কিছু বাল্ব কেনা হয়েছে।

​২ নং গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কোহিনুর বেগমকে দেড় লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। বিপুল এই অর্থ দিয়েও কেবল ৩টি ফ্যান, দরজা-জানালা ও টয়লেট মেরামতের সাধারণ কাজ দেখানো হয়েছে অথচ শহীদ মিনার রং করার মত ২ হাজার টাকা হয়নি।

​ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্কুলের দরজা-জানালা, বাল্ব ও গেট মেরামতের দাবি করেছেন শিক্ষিকা নূরজাহান বেগম।

মুলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক অনুকুল সরকার এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন তিনি অন্যান্য স্কুলের মত টয়লেট তালা গ্রিল গেট দরজা জানালা মেরামত করেছেন, তিনি বলছেন এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার কাজে এক লক্ষ ৪২ হাজার টাকা খরচ করেছেন কাজ করে আরো বিশ হাজার টাকার লস।

​দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ যখন শিক্ষা অফিসার
​অভিযোগ উঠেছে, এই অর্থ আত্মসাতের পুরো ছকটি তৈরি করেছেন শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন। তিনি শুধু দুর্নীতির সুযোগই করে দেননি, বরং বরাদ্দকৃত টাকা থেকে নিজের ভাগও বুঝে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, গণমাধ্যম বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন এড়াতে তিনি শিক্ষকদের বিশেষ ‘কৌশল’ শিখিয়ে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সামনে কী বলতে হবে এবং কীভাবে তথ্য গোপন করতে হবে, সে বিষয়েও তিনি শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

​এবিষয়ে বক্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্তরা
​অর্থ আত্মসাতের এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি নিজের মতো করে সাজানো কিছু তথ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। এবং সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে অন্য দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়ে মূল ঘটনাকে ধামাচাপার দেওয়ার চেষ্টা করে।

​শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, সরকারি এই বরাদ্দের টাকা যদি সঠিকভাবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হতো, তবে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হতো। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই অর্থ লোপাট হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। তারা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

৬২ হাজার টাকায় কেনা বিড়াল অসুস্থ, টাকা ফেরত দিতে আইনি নোটিশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
৬২ হাজার টাকায় কেনা বিড়াল অসুস্থ, টাকা ফেরত দিতে  আইনি নোটিশ

গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার গৃহবধূ সানিলা জাহান জুঁইয়ের শখ বিড়াল পালন। আগে থেকেই তাঁর বাসায় একটি মাদী বিড়াল ছিল। সেটির সঙ্গে জুটি করতে তিনি একটি পুরুষ বিড়াল খুঁজছিলেন। এ সময় অনলাইনে বিড়াল বিক্রির একটি বিজ্ঞাপন তাঁর নজরে আসে।

বিজ্ঞাপন দেখে তিনি ঢাকার মালিবাগের সিদ্ধেশ্বরী বয়েজ স্কুলের পাশে অবস্থিত সোহাগ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের দ্বীন ইসলাম মাজেদ ও রাফসান নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা একটি বিড়াল দেখিয়ে এর দাম ৬২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ওই দামে বিড়ালটি কিনতে জুঁই প্রথমে ২ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন।

পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিড়ালটি পাঠানো হয়। কুরিয়ার থেকে বিড়ালটি গ্রহণ করার সময় বাকি ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু বাসায় আনার পর দেখা যায় বিড়ালটি অসুস্থ।

ভুক্তভোগী সানিলা জাহান জুঁই বলেন, বিড়ালটি কেনার সময় শর্ত ছিল এটি সুস্থ হতে হবে এবং তাঁর বাসায় থাকা মাদী বিড়ালের সঙ্গে মিল (ম্যাচিং) থাকতে হবে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিড়ালটি বাসায় আনার পর দেখা যায় এটি অসুস্থ এবং বাসায় থাকা বিড়ালের সঙ্গে মিলও হচ্ছে না। বিষয়টি জানিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিড়াল ফেরত নিতে ও টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, বিক্রেতারা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ ঘটনায় তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান জানান, বিড়াল বিক্রেতাদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে তারা যদি বিড়ালটি ফেরত নিয়ে জুঁইয়ের টাকা ফেরত না দেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বিড়াল বিক্রেতাদের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

গাজীপুরের শ্রীপুরে চৌরাস্তা সংলগ্ন আনসার রোড কলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়মুখী ১২০ মিটার আরসিসি (RCC) ঢালাই রাস্তার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ রাস্তার উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালিব, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ, শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ, সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ, প্রকৌশলী উপসহকারী তানভির আহমেদ এবং ঢাকা বিভাগ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হাসান ইকবাল কাজল মৃধা, শ্রীপুর উপজেলা বিআরডিভি চেয়ারম্যান মাহফুল হাসান হান্নান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরিফ সিদ্দিকীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, নতুন করে নির্মিত আরসিসি ঢালাই রাস্তার ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এ এম আর এন্টারপ্রাইজ।

শ্রীপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

“সঠিক প্রশিক্ষণ, নিরাপদ ভ্রমণ” স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) অনুমোদিত অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে প্রশিকা ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মো. আহাদ উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর হক এবং সভাপতিত্ব করেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক মো. আজিজির রহমান। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী শওকত চক্রবর্তী, সাবেক উপ-প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান কামাল, জহিরুল ইসলাম কাজল, মমতাজ উদ্দিন ও আবুল বাশারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এই মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে। এতে স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।