২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীপুর পৌরসভা শুরু থেকেই অনিয়ম–দুর্নীতির নানা অভিযোগে দেশজুড়ে আলোচিত। দীর্ঘদিন মেয়রের সহযোগিতায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠে দুর্নীতির অভিযোগ। তবে মেয়র বরখাস্ত হওয়ার পর প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ায় দীর্ঘ দুই যুগ পর পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে।
এদিকে মাত্র ছয় মাস আগে যোগদান করা বর্তমান পৌর নির্বাহী সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাকে সরিয়ে, নানা অনিয়মে অভিযুক্ত পৌর নির্বাহী বদরুজ্জামান বাদলকে তৃতীয়বারের মতো শ্রীপুরে পদায়ন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পূর্বে শ্রীপুরে দায়িত্ব পালনকালে বাদলের বিরুদ্ধে পৌর তহবিল তছরুপসহ নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ ছিল।
গত ১৬ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর -১ শাখার জারি করা আদেশে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা থেকে তাকে শ্রীপুর পৌরসভায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে তিনি প্রথম দফায় ২০০৪ সাল পর্যন্ত দুই বছর , দ্বিতীয় দফায় -২০১৯ পর্যন্ত তিন বছর শ্রীপুরে দায়িত্ব পালন করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, “বিতর্কিত এই কর্মকর্তা ২০১৬-১৯ মেয়াদে তৎকালীন মেয়রের ছত্রছায়ায় একচ্ছত্র ক্ষমতায় ছিলেন। রাস্তা-ড্রেন নির্মাণ না করে মেয়রের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন। জঙ্গল পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও ময়লা অপসারণ খাতে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে তার আমলে। কর্মচারী জহিরের মাধ্যমে এসব অনিয়ম করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন সাধারণ মানুষ অভিযোগ করার সাহস পায়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “২০১৭ সালে অনিয়ম ধরা পড়লে ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজ উদ্দিন প্রতিবাদ করেন। তখন কাউন্সিলরকে গালাগাল ও লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে অভিযোগও হয়েছিল। এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বাদলকে আবার এখানে আনা হলো কেন? দেশে কি আর কেউ নেই?”
আরেক বাসিন্দা রাশেদ বলেন, “মশার যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাদলের সময় কোনও মশক নিধন কার্যক্রম দেখা যায়নি।” পুরো টাকাই সে আত্নসাত করেছিল।
তৃতীয়বারের মতো পদায়ন প্রসঙ্গে বদরুজ্জামান বাদল মুঠোফোনে বলেন, “এই পদের জন্য অনেক ঠেলাঠেলি হয়। শ্রীপুরে যিনি ছিলেন তাকেও ঠেলা দিয়ে এসেছি। আমাকেও ঠেলার জন্য আরও লোক প্রস্তুত আছে। শ্রীপুর আমার কাছে—অবসর নেওয়ার সময় পাওনা অর্থ আদায়ও সহজ।”
তবে আগের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সত্য নয়। সেসময় নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র, আমি একা কিছু করতে পারি না।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ বলেন, “এর আগে কী হয়েছে বলতে পারব না। আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে কোনও অনিয়মের সুযোগ নেই। আর পৌর নির্বাহীর পদায়ন মন্ত্রণালয়ের বিষয়—আমি সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ । ১:৩৯ অপরাহ্ণ