আজ বুধবার ৪ মার্চ, ২০২৬ | ১৪ রমজান, ১৪৪৭ | ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ বসন্তকাল

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থান ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’—বললেন এস জয়শঙ্কর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে অবস্থান নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার এনডিটিভির এডিটর-ইন-চিফের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ভারত অবস্থান সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত; যে ‘পরিস্থিতি’ তাকে ভারতে নিয়ে এসেছে, তা-ই এখন তার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।


ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ভারতে আশ্রয়

গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের শেষ হয়। আন্দোলন-সহিংসতায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে, আহত হন হাজারো মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

গত মাসে ঢাকার বিশেষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গণঅভ্যুত্থান দমনে সরকারি দমন-পীড়নের অভিযোগে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। অনুপস্থিতিতেই এই রায় দেওয়া হয়।


‘যতদিন খুশি ভারতে থাকতে পারবেন?’—প্রশ্নে জয়শঙ্করের জবাব

নয়াদিল্লিতে এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সিইও ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে কথা বলার সময় শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর বলেন—

“তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন। আমার মনে হয় সেই পরিস্থিতি এখন তার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে স্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।”


ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য

পরে আলোচনায় ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রতিবেশী বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন—

“বাংলাদেশে পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো নিয়ে আপত্তি ছিল। এখন যদি সমস্যার জায়গা নির্বাচন হয়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন।”

ভারত বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই দেখতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন—

“আমরা বাংলাদেশের মঙ্গলই চাই। জনগণের ইচ্ছা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, সেটাই আমাদের অবস্থান।”


ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ

জয়শঙ্কর আরও বলেন—

“আমি আশাবাদী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যে সরকারই আসুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

প্রিন্ট করুন