বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
শ্রীপুরে বিক্রিত জমি পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগকল্পনালতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগমিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে শ্রীপুরে সংবাদ সম্মেলনবগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব উঠতে পারে নিকার সভায়চট্টগ্রাম থেকে ১৯ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরুনম্বর প্লেটেই আসল খেলা : ৬ লাখের সিএনজি ২৫ লাখ!গাজীপুরে ভূমি তথ্য সংগ্রহ ও সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসকগাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, সেনা অভিযানে জরিমানা সাড়ে ৪ লাখমধ্যরাতেও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারিশ্রীপুরে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিতTestশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়

শ্রীপুরে রহস্যময় সাপের কামড়ে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১০ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে রহস্যময় সাপের কামড়ে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক।
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পেলাইদ মধ্য পাড়া এলাকায় সাপের রহস্যজনক দংশনের ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ জনের বেশি মানুষ সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এতগুলো দংশনের ঘটনা ঘটলেও আক্রান্তদের কেউই এখনও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। সবাই স্থানীয় এক কবিরাজের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁকভিত্তিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িতে সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটছে। এতে তারা এখন ভয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। তিনি বলেন, “আমরা এখন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। বাড়ির চারপাশে সারারাত আলো জ্বালিয়ে রাখতে হয়। কখন, কোন বাসিন্দা আক্রান্ত হয়—এই ভয়ে সবাই আতঙ্কে আছে।”

আরেক বাসিন্দা সাইফুদ্দিন শেখ ফাহিম বলেন, গত সপ্তাহে তার প্রতিবেশীসহ বেশ কয়েকজনকে সাপ কামড়েছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে কেউ না গিয়ে স্থানীয় কবিরাজের চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি জানান, সাপ আতঙ্কে এলাকার শিশুরাও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না।

সাপের কামড়ে আহত স্থানীয় যুবক ইমরান বলেন, রাতে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ করে পায়ে ব্যথা অনুভব করেন। পরে রক্ত বের হতে দেখে বুঝতে পারেন সাপ কামড়েছে। তিনি জানান, “আমি সাপটাকে চোখে দেখিনি। ভয় পেয়ে পরিবার দ্রুত কবিরাজের কাছে নিয়ে যায়। এখন কিছুটা ভালো লাগছে, তবে পা ফুলে আছে।”

স্থানীয় কবিরাজ মো. আব্দুল মালেক দাবি করেন, গত এক সপ্তাহে তার কাছে ১৫–২০ জন সাপের দংশনের রোগী এসেছে। তার ভাষ্য, “একজন রোগীও সাপটিকে চোখে দেখেনি। আমি ঝাড়ফুক দিয়ে চিকিৎসা করছি। অনেকেই ভালো হয়েছে।”

গ্রামবাসীরা মনে করছেন, আক্রান্তদের বেশিরভাগই সাপ দেখতে পাননি, অর্থাৎ ঘটনাগুলো অদৃশ্যভাবে ঘটছে। এতে বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে, যা এলাকাবাসীর আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে গুজবও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

এদিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এলাকায় হয়তো ঝোপঝাড় বা ফসলি জমিতে লুকিয়ে থাকা বিষহীন দংশনকারী সাপের আধিক্য থাকতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পোকামাকড় বা কাঁটার আঘাতও সাপের কামড় বলে ভুল হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি।

শ্রীপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, “সাপ সাধারণত নিরীহ প্রাণী। সুযোগ পেলেই তারা মানুষের কাছ থেকে পালিয়ে যায়। সাপ কেবল তখনই কামড়ায়, যখন তারা নিজেদের হুমকির মুখে মনে করে।” তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ সাপই বিষহীন হওয়ায় আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় বন বিভাগকে জানালে তারা দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করতে পারবেন।

তিনি জানান, সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বিশেষ করে ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণে সাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাপ দেখলে মারার চেষ্টা না করে বন বিভাগকে জানানো উচিত।

এদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বরমী এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে কোনো সাপের দংশনের রোগী আসেনি। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি দেখেছি। কিন্তু এদের বেশিরভাগই আসলে সাপের কামড় নয়। এসব নিয়ে এলাকায় ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি কাউকে সত্যিকারের বিষধর সাপ কামড়ায়, তাকে অবশ্যই হাসপাতালে এনে অ্যান্টিভেনম দিতে হবে। কবিরাজি চিকিৎসায় বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। তাই যেকোনো দংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এলাকায় সাপ ধরার কার্যক্রম চালু করা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। নইলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

শ্রীপুরে বিক্রিত জমি পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে বিক্রিত জমি পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া বাজার এলাকায় বিক্রিত একটি জমি পুনরায় জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমির মালিক হারিসুল হকের মেয়ে তাসলিমা আক্তার। উল্লেখ্য, জমিটি ৭ নম্বর কেওয়া মৌজায় অবস্থিত। এর এসএ দাগ নম্বর ১৬৬৪ এবং আরএস দাগ নম্বর ৩৩৮৬ ও ৩৩৮৭। ২০০৯ সালে তিনি জমিটি প্রথমে মোক্তার হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মোক্তার হোসেন থেকে মাহমুদা আক্তার রিনা জমির মালিকানা অর্জন করেন।

কিন্তু তৎকালীন পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীনের প্রলোভনে পড়ে তাসলিমা আক্তার একই জমি পুনরায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালে জালাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে প্রায় ১৩ গন্ডা জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি ও তার স্ত্রী শিরিনা আক্তারের নামে সমহারে ৩.৫০ শতাংশ জমি সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করেন। এরপর প্রভাব খাটিয়ে জমিটি জবর দখল করেন বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরে ৫ আগস্টের পর জালাল উদ্দীন এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মাহমুদা আক্তার রিনা পুনরায় জমির দখল বুঝে পান।

বর্তমানে জালাল শেখের সহযোগী শিরিন আক্তার এবং স্থানীয় জাকির মন্ডলের নেতৃত্বে একদল লোকজন নিয়ে পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।

মাহমুদা আক্তার রিনা বলেন, “আমরা এখন ভয়ের মধ্যে বসবাস করছি। যেকোনো সময় হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

রিনার ভাই মাসুদ রানা বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তা না পেরে এখন হামলার চেষ্টা করছে।”
আরেক ভাই আমিনুল ইসলাম জানান, “আমাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। জমি ছেড়ে না দিলে যেকোনো সময় হামলা হতে পারে বলেও হুমকি দিচ্ছে তারা।”

অপর দিকে জাকির মন্ডল বলেন, “তাসলিমা আক্তার জালাল শেখের কাছে জমি বিক্রি করেছেন। তবে সম্পূর্ণ জমির মালিক তাসলিমা আক্তার না হওয়ায় মাসুদ রানা কিছু অংশ বিক্রিতে সম্মতি দেন। কিন্তু রেজিস্ট্রি সম্পূর্ণ করা হয়নি। আমি জালাল শেখের কাছ থেকে বায়না করেছি। কোনো ধরনের মামলা, হামলা বা হুমকি দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

কল্পনা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
কল্পনা

বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ

হজ ব্যবসায় ব্যস্ত প্রভাষক

লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের ইবতেদায়ী শাখার শিক্ষিকা আলেয়া আক্তার প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, আরবি বিভাগের প্রভাষক গোলাম কিবরিয়া হজ্ব ও উমরার ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত পাঠদানে মনোযোগী নন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, তিনি বছরে দুইবার করে সৌদি আরব যান এবং গত দুই বছরে অন্তত চারবার সেখানে গিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলেয়া আক্তার ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রথমদিকে তিনি একজন প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগ দিলেও কয়েক মাস পর সেই শিক্ষকও চলে যান। ফলে ইবতেদায়ী শাখার শিক্ষার্থীরা কার্যত শিক্ষকশূন্য অবস্থায় পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে। অনেক শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকেন না এবং শ্রেণি কার্যক্রমে অবহেলা করেন। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছেমতো পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফি উদ্দিন আহমেদ বলেন,আলেয়া আক্তার ১১ মাস অনুপস্থিত থাকার পর গত মাস থেকে তার বেতন বন্ধ করা হয়েছে। অপর শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া হজ্ব ও উমরার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তিনি গত বছর সৌদি আরব গিয়েছিলেন এবং এ বছরও যাওয়ার আবেদন দিয়েছেন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগতি করেছি।

অভিযুক্ত দুইজন শিক্ষকের মুঠোফোনে একধিক বার যোগাযোগের চেষ্ঠা করলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।