খুঁজুন
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

ঘুরে ফিরে আবারও শ্রীপুরে পৌর নির্বাহী বাদল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঘুরে ফিরে আবারও শ্রীপুরে পৌর নির্বাহী বাদল

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীপুর পৌরসভা শুরু থেকেই অনিয়ম–দুর্নীতির নানা অভিযোগে দেশজুড়ে আলোচিত। দীর্ঘদিন মেয়রের সহযোগিতায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠে দুর্নীতির অভিযোগ। তবে মেয়র বরখাস্ত হওয়ার পর প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ায় দীর্ঘ দুই যুগ পর পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে।

এদিকে মাত্র ছয় মাস আগে যোগদান করা বর্তমান পৌর নির্বাহী সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাকে সরিয়ে, নানা অনিয়মে অভিযুক্ত পৌর নির্বাহী বদরুজ্জামান বাদলকে তৃতীয়বারের মতো শ্রীপুরে পদায়ন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পূর্বে শ্রীপুরে দায়িত্ব পালনকালে বাদলের বিরুদ্ধে পৌর তহবিল তছরুপসহ নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ ছিল।

গত ১৬ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর -১ শাখার জারি করা আদেশে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা থেকে তাকে শ্রীপুর পৌরসভায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে তিনি প্রথম দফায় ২০০৪ সাল পর্যন্ত দুই বছর , দ্বিতীয় দফায় -২০১৯ পর্যন্ত তিন বছর শ্রীপুরে দায়িত্ব পালন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, “বিতর্কিত এই কর্মকর্তা ২০১৬-১৯ মেয়াদে তৎকালীন মেয়রের ছত্রছায়ায় একচ্ছত্র ক্ষমতায় ছিলেন। রাস্তা-ড্রেন নির্মাণ না করে মেয়রের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন। জঙ্গল পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও ময়লা অপসারণ খাতে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে তার আমলে। কর্মচারী জহিরের মাধ্যমে এসব অনিয়ম করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন সাধারণ মানুষ অভিযোগ করার সাহস পায়নি।”

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “২০১৭ সালে অনিয়ম ধরা পড়লে ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজ উদ্দিন প্রতিবাদ করেন। তখন কাউন্সিলরকে গালাগাল ও লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে অভিযোগও হয়েছিল। এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বাদলকে আবার এখানে আনা হলো কেন? দেশে কি আর কেউ নেই?”

আরেক বাসিন্দা রাশেদ বলেন, “মশার যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাদলের সময় কোনও মশক নিধন কার্যক্রম দেখা যায়নি।” পুরো টাকাই সে আত্নসাত করেছিল।

তৃতীয়বারের মতো পদায়ন প্রসঙ্গে বদরুজ্জামান বাদল মুঠোফোনে বলেন, “এই পদের জন্য অনেক ঠেলাঠেলি হয়। শ্রীপুরে যিনি ছিলেন তাকেও ঠেলা দিয়ে এসেছি। আমাকেও ঠেলার জন্য আরও লোক প্রস্তুত আছে। শ্রীপুর আমার কাছে—অবসর নেওয়ার সময় পাওনা অর্থ আদায়ও সহজ।”

তবে আগের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সত্য নয়। সেসময় নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র, আমি একা কিছু করতে পারি না।”

এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ বলেন, “এর আগে কী হয়েছে বলতে পারব না। আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে কোনও অনিয়মের সুযোগ নেই। আর পৌর নির্বাহীর পদায়ন মন্ত্রণালয়ের বিষয়—আমি সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”

শ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

গাজীপুরের শ্রীপুরে চৌরাস্তা সংলগ্ন আনসার রোড কলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়মুখী ১২০ মিটার আরসিসি (RCC) ঢালাই রাস্তার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ রাস্তার উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালিব, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ, শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ, সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ, প্রকৌশলী উপসহকারী তানভির আহমেদ এবং ঢাকা বিভাগ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হাসান ইকবাল কাজল মৃধা, শ্রীপুর উপজেলা বিআরডিভি চেয়ারম্যান মাহফুল হাসান হান্নান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরিফ সিদ্দিকীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, নতুন করে নির্মিত আরসিসি ঢালাই রাস্তার ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এ এম আর এন্টারপ্রাইজ।

শ্রীপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

“সঠিক প্রশিক্ষণ, নিরাপদ ভ্রমণ” স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) অনুমোদিত অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে প্রশিকা ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মো. আহাদ উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর হক এবং সভাপতিত্ব করেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক মো. আজিজির রহমান। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী শওকত চক্রবর্তী, সাবেক উপ-প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান কামাল, জহিরুল ইসলাম কাজল, মমতাজ উদ্দিন ও আবুল বাশারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এই মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে। এতে স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

৫ বছরে ২০ হাজার কিমি খাল খননের লক্ষ্য: শ্রীপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
৫ বছরে ২০ হাজার কিমি খাল খননের লক্ষ্য: শ্রীপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

খাল খনন কর্মসূচিকে একটি বিপ্লবী আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি এমপি। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষকদের স্বার্থে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। খাল খননের মাধ্যমে খালে পানি প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ায় কৃষকরা সহজে সেচ দিতে পারতেন, মাছ উৎপাদন হতো এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ সম্ভব হতো।
সোমবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা চৌক্কার খাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল ভরাট, দখল এবং দূষণের ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন, আবার কেউ কেউ খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ফলে খালগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিমি খাল খননের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মেয়াদের মধ্যেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। শ্রীপুর ও গাজীপুরের আরও বেশ কয়েকটি খাল খনন করা হবে, যদিও নানা বাধা-বিপত্তি আসতে পারে। তবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেগুলো মোকাবিলা করা হবে।
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরই কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার পরিমাণ সারা দেশে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। এর মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষিই দেশের অর্থনীতির চাবিকাঠি। সরকার কৃষকদের সহায়তা করতে চায়, যাতে তারা ফসল উৎপাদন বাড়াতে পারেন। সবাইকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে এর দৃশ্যমান অগ্রগতি ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষকদের স্বার্থে জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন এবং দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারও ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ সময় পা‌নি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হো‌সেন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপু‌রের জেলা প্রশাসক আলম হো‌সেন ও জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ড. ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীসহ প‌ানি উন্নয়ন বো‌র্ডের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছি‌লেন।