খুঁজুন
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন- দুই সময়ের শহীদদের রক্ত ঝরানোর ধারাবাহিকতাকে এক সুতোয় গেঁথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র পথ হলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দলমত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষ ৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।

নিরাপদ দেশ গড়া
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজ তাদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করতে চায়। কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।’

‘আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, একইভাবে সমতল মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

প্রত্যাশা পূরণ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটির বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, পাঁচ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ ও কয়েক কোটি কৃষক শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা আছে রাষ্ট্রের কাছে। আকাঙ্ক্ষা আছে দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে এই লাখ-কোটি মানুষের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।’

রক্তের ঋণ শোধ
মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের শহীদরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য।’

তিনি অভিযোগ করেন, ১৫ বছরের স্বৈরাচারের আমলে হাজারো মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে।

২০২৪ সালের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেখেছি তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।’

সম্প্রতি নিহত শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক।’

সব শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসসহ, ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন। এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ শোধ করতে আসুন আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

ধৈর্য ধারণের আহ্বান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তির ভক্ত-চরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে পারি।’

এসময় মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার সাথে আজকে মঞ্চে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে আল্লাহর রহমত চাই। যে জাতীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে আছেন, বাইরে আছেন, আমরা সকলে মিলে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

দেশের শান্তি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোন উসকানির মুখে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই।’

আই হ্যাভ এ প্ল্যান
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে- আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই- আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’

এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন জন্য বাস্তবায়ন করতে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা লাগবে বলে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।’

ন্যায়ের আলোকে দেশ পরিচালনা
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি- হে রাব্বুল আলামিন, একমাত্র মালিক, একমাত্র পরওয়ারদিগার, একমাত্র রহমতদানকারী, একমাত্র সাহায্যকারী, আজ আপনি যদি আমাদের রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য ও দয়া এই দেশ ও দেশের মানুষের ওপর থাকে, ইনশাআল্লাহ আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।’

‘আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশের দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ন্যায়পরায়ণতা সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা
নিজের মা খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘এই একটি মানুষ, যে মানুষটি এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। তার সাথে কী হয়েছে আপনারা প্রত্যেকে সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে চাইবো, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ ওনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।’

নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘সন্তান হিসেবে আমার মন মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা, সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারিনি। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদেরসহ টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন, সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি আপনাদের সামনে।’

শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, যে শ্রেণির মানুষ হই, যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হই, অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই- আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে মানুষ যাতে নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক, যেকোনো বয়স, শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।’

শ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

গাজীপুরের শ্রীপুরে চৌরাস্তা সংলগ্ন আনসার রোড কলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়মুখী ১২০ মিটার আরসিসি (RCC) ঢালাই রাস্তার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ রাস্তার উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালিব, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ, শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ, সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ, প্রকৌশলী উপসহকারী তানভির আহমেদ এবং ঢাকা বিভাগ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হাসান ইকবাল কাজল মৃধা, শ্রীপুর উপজেলা বিআরডিভি চেয়ারম্যান মাহফুল হাসান হান্নান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরিফ সিদ্দিকীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, নতুন করে নির্মিত আরসিসি ঢালাই রাস্তার ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এ এম আর এন্টারপ্রাইজ।

শ্রীপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

“সঠিক প্রশিক্ষণ, নিরাপদ ভ্রমণ” স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) অনুমোদিত অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে প্রশিকা ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মো. আহাদ উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর হক এবং সভাপতিত্ব করেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক মো. আজিজির রহমান। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী শওকত চক্রবর্তী, সাবেক উপ-প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান কামাল, জহিরুল ইসলাম কাজল, মমতাজ উদ্দিন ও আবুল বাশারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এই মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে। এতে স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

৫ বছরে ২০ হাজার কিমি খাল খননের লক্ষ্য: শ্রীপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
৫ বছরে ২০ হাজার কিমি খাল খননের লক্ষ্য: শ্রীপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

খাল খনন কর্মসূচিকে একটি বিপ্লবী আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি এমপি। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষকদের স্বার্থে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। খাল খননের মাধ্যমে খালে পানি প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ায় কৃষকরা সহজে সেচ দিতে পারতেন, মাছ উৎপাদন হতো এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ সম্ভব হতো।
সোমবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা চৌক্কার খাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল ভরাট, দখল এবং দূষণের ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন, আবার কেউ কেউ খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ফলে খালগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিমি খাল খননের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মেয়াদের মধ্যেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। শ্রীপুর ও গাজীপুরের আরও বেশ কয়েকটি খাল খনন করা হবে, যদিও নানা বাধা-বিপত্তি আসতে পারে। তবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেগুলো মোকাবিলা করা হবে।
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরই কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার পরিমাণ সারা দেশে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। এর মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষিই দেশের অর্থনীতির চাবিকাঠি। সরকার কৃষকদের সহায়তা করতে চায়, যাতে তারা ফসল উৎপাদন বাড়াতে পারেন। সবাইকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে এর দৃশ্যমান অগ্রগতি ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষকদের স্বার্থে জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন এবং দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারও ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ সময় পা‌নি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হো‌সেন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপু‌রের জেলা প্রশাসক আলম হো‌সেন ও জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ড. ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীসহ প‌ানি উন্নয়ন বো‌র্ডের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছি‌লেন।